এ ধরনের থিম ব্যবহার করার কারণ জানতে চাইলে জবির উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে আমাদের কাছে ভাতের বিষয়টি প্রাধান্য ছিল। আমরা প্রথমে অন্নের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ন হলাম। এরপর আমরা এখন মাছের ক্ষেত্রেও বেশ অগ্রগতি লাভ করেছি। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে চলে এসেছে। আমরা এ দুটিকেই এক সঙ্গে উদযাপন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক সময় বলতাম মাছে ভাতে বাঙালি, এটা কোনও সময়ই আক্ষরিক অর্থে ছিল না বরং এটা রূপক অর্থে ছিল। কিন্তু এটাকে এখন আমরা বাস্তবে রূপদান করতে পেরেছি। এখন এমন কোনও মানুষ নেই যারা মাছ-ভাত পাচ্ছে না। তাই আমাদের এবারের থিম হিসেবে করা হয়েছে ২০ ফুটের বেশি লম্বা একটি ইলিশ মাছ এবং সঙ্গে অন্যান্য ব্যানার, ফেস্টুন ও মুখোশ ’
যেহেতু এবার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তাই এবার কোনও বিশেষত্ব থাকবে কি না জানতে চাইলে জবির উপাচার্য বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর চেষ্টা করি সবচেয়ে ভালো করে আয়োজন করার। এবার আরও ব্যাপক পরিসরে আমরা আয়োজন করব। পুরোনো ঢাকার প্রায় ৩০০ শতাধিক শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করবে। এতে তিন শতাধিক মুখোশ, প্লেকার্ডসহ বাঙালি সাজ-সজ্জার যেসব উপকরণ আমরা ব্যবহার করি এসব থাকবে। তবে এবার এর সঙ্গে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্লেকার্ড থাকবে। সর্বোপরি আয়োজনের দিক থেকে এবার সবচেয়ে ব্যাপকভাবে করা হবে।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে সামরিক স্বৈরশাসনের হতাশার দিনগুলোতে তরুণেরা এ মঙ্গল শোভাযাত্রার রীতিটি শুরু করেছিল। শিক্ষার্থীরা অমঙ্গলকে দূর করার জন্য বাঙালির নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক, প্রাণির প্রতিকৃতি ও মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রা করেছিল। সেই থেকে আজও দেশে ও দেশের বাইরে প্রায় প্রতিটি বাঙালি এমনকি বাংলা অনুরাগী কিছু বিদেশীরাও বেশ আগ্রহ নিয়ে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ও অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান নিয়মিত পালন করে আসছেন।
/জেকেআর/এসএনএইচ/