‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গৌরবের সঙ্গে যুক্ত বুদ্ধিজীবীদের ষড়যন্ত্র করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেবল নির্দোষকে হত্যা নয়, বাংলাদেশের চেতনাকে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জয় হয়েছিল মানবতার’- বলছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির মানেকশ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাত পরিবারকে বাংলাদেশের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মোদি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মগাথা এক অসীম বলিদানের গাথা। ১৯৭১-এর পর শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অশান্তি থেকে বের হয়ে আসে। আক্রোশ মিটিয়ে বাংলাদেশকে সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণের রাস্তা দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। আমি তার বিচারের জ্ঞানকে ধারণ করতে পেরেছি, এ আমার সৌভাগ্য।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের অংশ হিসেবে ভারতীয় শহীদদের পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তার প্রশংসা করে মোদি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখানে এসেছেন। আমি তার সাহসের প্রশংসা করি। যে মুশকিল পরিস্থিতি থেকে নিজেকে ও দেশকে বের করেছেন তিনি, সেই সাহস সবার থাকে না। কেউ ভাবতে পারে, পরিবারের ১৬ জন নিহত হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধুকন্যা সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণের চেষ্টা ধরে রেখেছেন। ৪৫ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়েছে ৩১ গুণ। শিশুমৃত্যু ২২২ থেকে ২৯-এ নেমে গেছে। পরিবর্তনের এই ধারা বহুকিছু বলছে। শেখ হাসিনার হাত ধরে আর্থিক প্রগতির নতুন সীমা অতিক্রম করছে বাংলাদেশ।’
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে যে সাতজন শহীদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে সম্মাননা দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে এর মধ্যে চারজন সেনাবাহিনীর, একজন করে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিএসএফের জওয়ান। সেনাবাহিনীর চারজন হলেন শহীদ ল্যান্স নায়েক আলবার্ট এক্কা, মেজর অনুপ সিং গোলাট, সুবেদার মালকিত সিং এবং হাবিলদার সুগন সিং। নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট সমীর দাস, বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এবি সুমন্ত এবং বিএসএফ-এর ল্যান্স নায়েক মোহিনী রঞ্জন চক্রবর্তী।
/ইউআই/জেএইচ/