মাদারীপুরে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় হাইকোর্টের রুল

হাইকোর্ট

মাদারীপুরের কালকিনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলামকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ রবিবার বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি মোহম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, কালকিনি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত রবমকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আগামী এক মাসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ন্যূনতম পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন আগামী ১৪ মে’র মধ্যে আদালতে হলফনামা আকারে দাখিল করতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুরের কালকিনিতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রচারণার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কালকিনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম। এর প্রতিবাদে থানায় মামলা করতে গিয়ে উল্টো ‘চাঁদাবাজির’ মামলায় আটক হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপরে নির্বাচনি প্রচারণার সংবাদ সংগ্রহ করতে পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নে যান সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে’ এমন ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিক শহিদুল ইসলামের ওপর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাদল তালুকদারের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দিলে পুলিশ ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে কালকিনি থানায় নিয়ে আসে। এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছোট ভাই সরোয়ার তালুকদার (৩০) ও নাজমুল খান (১৭) নামে দুজনকে আটকও করা হয়। বিকালে এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পড়ে ওই সাংবাদিকের মামলা না নিয়ে উল্টো থানায় তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

/এমটি/ইউআই/এসটি/

আরও পড়ুন: গাছের সঙ্গে বেঁধে সাংবাদিককে মারধর, অতঃপর থানায় আটক