বাংলাদেশ তিস্তার জন্য অপেক্ষা করছে: শেখ হাসিনা

ভারতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি- ফোকাস বাংলা)বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিন সম্পর্ক এখন অনেক পরিপক্ক। পাশাপাশি এটা বহুমাত্রিক ও কৌশলগত। তিস্তা চুক্তি হলে এ সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নেবে।’
সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির থিংক ট্যাংক ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পানি সম্পদের জন্য সবার একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সুষ্ঠভাবে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন করতে হবে। এর মাধ্যমে অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা আমাদের সবার ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।’
তিন দশক দর কষাকষির পর তিস্তা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে ছয় বছর আগে এবং ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে এটি স্বাক্ষরের কথা ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধীতার কারণে এ চুক্তি সই করা যায়নি।
এরপর গত ছয় বছর ধরে ভারতের সবোর্চ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। এবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের আগে বাংলাদেশ এ চুক্তির জন্য অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় সীমার জানার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটি সফল হয়নি।
ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সংম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা এল কে আদভানি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ আমরা সামগ্রিকভাবে দূর করেছি এবং এটি আমাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করার একটি উপাদান। দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বহুস্তর ভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনেকগুলো যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক মেকানিজম এখানে কাজ করে।
সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ আমাদের শান্তি ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বড় বাধা। সন্ত্রাসীদের কারণে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজকে একীভূত হওয়া এখন ঝুঁকির মুখে।’
স্থল ও সুমদ্র সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, দুদেশ শান্তিপূর্ণভাবে এ সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি এজন্য সব রাজনৈতিক দল এবং লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর চালানো গণহত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার ইতিহাস এখন বিকৃত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংসদ সম্প্রতি একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়েছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন-
তিস্তার বিকল্প নয় তোর্সা

মমতার প্রস্তাবে বিব্রত শেখ হাসিনা, অস্বস্তিতে মোদি সরকার

তোর্সার পানি বণ্টনের প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না দিল্লি!

/এসটি/আপ-টিআর/