‘পানি মাঙ্গা লেকিন ইলেক্ট্রিসিটি মিলা’

10-04-17-PM_India Foundation Reception-1

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু ছিল তিস্তা চুক্তি। এবারের সফরে এ চুক্তি যে হবে না তা আগে থেকেই জানা গিয়েছিল। তারপরও কবে নাগাদ চুক্তি হতে পারে তা জানার আগ্রহ বাংলাদেশে ছিল। কিন্তু এ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে মিলেছে শুধুই আশ্বাস। সোমবার ক্ষমতাসীন দল বিজেপির থিংক ট্যাংক ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিস্তার পানি বণ্টন যে গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা গেলো।

তিস্তা নিয়ে একটু মজা করেই শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিস্তায় মোদিতে ভরসা, পাতা নেহি দিদিমনি কিয়া কারেগা। নয়া কুছ দেখা দিয়া....পানি মাঙ্গা লেকিন ইলেক্ট্রিসিটি মিলা। কোই বাত নেহি কুছ তো মিলা। (জানি না দিদি কী করবেন। নতুন কিছু দেখা গেলো না...পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু পেলাম বিদ্যুৎ। ব্যাপার না, কিছু তো পেলাম।)’

হিন্দি ও বাংলা ভাষা মিলিয়ে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা। সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের শত্রু একটিই, তা হচ্ছে দারিদ্র।’

তিস্তা ইস্যুর জট খুলতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার দেখা করার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। তবে তিস্তার পানি বণ্টনের বদলে মমতা আরও তিনটি নদীর পানি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। মমতার এ প্রস্তাবে বেশ বিব্রত বাংলাদেশ ও ভারত সরকার।  

গত ছয় বছর ধরে ভারতের সবোর্চ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফরে এ চুক্তির জন্য অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় সীমার জানা যাবে বলে আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি সফল হয়নি।

প্রসঙ্গত, চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শেখ হাসিনা এখন ভারত আছেন। আজ সন্ধ্যায় তার দেশে ফেরার কথা। এ সফরে ভারতের সঙ্গে ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

ছবি: ফোকাস বাংলা।

 /ইউআই/এসটি/

আরও পড়ুন-

তিস্তার বিকল্প নয় তোর্সা

বাংলাদেশ তিস্তার জন্য অপেক্ষা করছে: শেখ হাসিনা

মমতার প্রস্তাবে বিব্রত শেখ হাসিনা, অস্বস্তিতে মোদি সরকার

তোর্সার পানি বণ্টনের প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না দিল্লি!