‘প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীস্বার্থ উপেক্ষিত’

 

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলনপ্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীস্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যাত্রীদের কোনও প্রতিনিধি না থাকায় প্রস্তাবিত আইনে মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থই সংরক্ষণ করা হবে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ অভিযোগ করেন।

সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনের খসড়ায় পুরনো আইনের মতো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফোরামগুলোতে শুধু মালিক-শ্রমিকদের রাখা হয়েছে । তাই এই আইনে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের আন্তরিকতা থাকার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, যাত্রী ভোগান্তির প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত না থাকা, উত্তরণের উপায় সম্পর্কে অবহিত না থাকা ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের চাপে এই আইনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এই আইনের ধারা আপসযোগ্য ও জামিন যোগ্য করায় সড়ক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।’

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সড়ক দূর্ঘটনার জন্য দায়ীরা হলেন চালক, মালিক, যাত্রী, হেলপার, কন্ডাক্টর, সড়ক নির্মাণ প্রকৌশলী, সড়ক সুপারভিশন কর্মকর্তা, সড়ক নির্মাণ ঠিকাদার, বিলবোর্ড স্থাপনকারী, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী, আনফিট যানবাহনে ফিটনেস সনদদাতা  বা অন্য যেকোনও ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি স্বরূপ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মো. মাহাবুবুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ফুয়ারার সভাপতি ড. ইকরাম আহাম্মেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরু, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক আব্দুল হক, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ।

ওএফ/এমএনএইচ/