বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজহারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সিটিং সার্ভিস কিংবা গেটলক সার্ভিস বলতে কিছু নেই। এখন থেকে এসব সার্ভিস থাকতে পারবে না। ভাড়া নিতে হবে বিআরটিএ’র তালিকা অনুযায়ী।’ তবে মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, ‘প্রথম দিন হওয়ায় কেউ কেউ হয়তো আগের মতো ভাড়া নিচ্ছেন। তবে শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে।’
পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে সিটিং সার্ভিসের কথা বলে যাত্রী তুলে বিপাকে পড়ে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৩৩২২)। এ বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় করা হয় ১০ টাকা এবং ফার্মগেটের পর থেকে মিরপুর পর্যন্ত যেকোনও স্টপেজে নামলে ভাড়া হাকা হয় ৩০ টাকা। এক পর্যায়ে বাসটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) সামনে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হয়। যাত্রীরা বাস থেকে নেমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন। ধরা পড়েন চালক আলীম খান। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাসটির জরিমানা করেন এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন।
ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বাসটিতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এ অনুযায়ী বাসের জরিমানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় চালককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
রাজধানীতে সিটিং বা গেটলক সার্ভিসের নামে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার যে খড়গ তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটা বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু কিছুতেই তা বন্ধ হচ্ছিল না।
অবশেষে গত ৪ এপ্রিল বাস মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেন, ১৫ এপ্রিল থেকে রাজধানীতে কোনও সিটিং বা গেটলক সার্ভিস থাকবে না। বাসের ভেতর দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া, বাসের ছাদের ওপরে ক্যারিয়ার, সাইড অ্যাঙ্গেল ও ভেতরে সংযোজিত অতিরিক্ত আসন খুলে ফেলতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে ওই ঘোষণা কার্যকর হয়নি। পরদিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল (রবিবার) থেকে তা কার্যকর করা হলো।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে রবিবার মালিক সমিতির নেতারাও নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি বিআরটিএ পাঁচটি স্পটে বসায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সকালে তেজগাঁও সাতরাস্তা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম উদ্বোধন করে বলেন, ‘গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরে না আসা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত চলবে।’ অন্যদিকে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রথম দিন হওয়ায় কয়েকটি বাসে হয়তো ভাড়ার তালিকা টাঙানো হয়নি। শিগগিরই সবকিছু শৃঙ্খলায় চলে আসবে।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
আরও পড়ুন-
সিটিং সার্ভিস বন্ধে দুর্ভোগে নারীরা
ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে রাস্তায় নেই গাড়ি!
/টিআর/