শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি

 

অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণে সুপারিশমালা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারাশ্রমিকের অভিবাসনব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনাসহ ২০ দফা সুপারিশ করেছেন এই খাতের বিশেষজ্ঞরা। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ হলো বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহিতা বাড়ানো, ভিসা ট্রেডিং বন্ধ করা, রেমিটেন্স পাঠানোর ব্যয় কমানো। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস (আরবিএম) আয়োজিত ‘অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণে সুপারিশমালা’ শীর্ষক সংলাপে তারা এই সুপারিশ করেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন,  সৌদি আরবে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত টাকা হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। একজন শ্রমিকের কাছ থেকে এই টাকার বেশি নিতে পারবে না। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্টরা নিচ্ছে সাত থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত। এ রকম প্রায় সব দেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রেই এমন প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এজেন্টরা।   

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, ‘এমন প্রতারণার হাত থেকে রেহায় পেতে হলে কর্মীকেই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি প্রতিবাদ করবেন।’

এ অনুষ্ঠানে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট-রামরু এর প্রধান সমন্বয়কারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধা নেয় মধ্যসত্বভোগী। এই দালালরা শ্রমিকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করে। এই শ্রেণির লোকদের চিহ্নিত করে এই সমস্যার অবসান করতে হবে। এটি করতে না পারলে অভিবাসন ব্যয় কমবে না।’ তবে শ্রমিকদের এমন প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ বোর্ডের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের কথা জানিয়ে সিআর আবরার বলেন, ‘এই টাকা প্রবাসী শ্রমিকদের চাঁদার টাকা। এই টাকা সরাসরি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমরা খবর পাচ্ছি, এই টাকা অন্য কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেও প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেটা দেওয়ার কথা ছিল না। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শ্রমিকদের কল্যাণে এসব টাকা যেন ব্যয় হয়, সেটিকে নিশ্চিত করতে হবে।’

বায়রার নেতা শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানও মধ্যসত্বভোগীদের তৎপরতার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘তারা শুধু আমাদের দেশে নয় বিদেশেও আছে। ফলে এই সমস্যাটি বেশ জটিল। এটির বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আসা উচিত।’

আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিফা হাফিজাও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা কমানোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এসব বিষয়ে সরকারের মুখপাত্র প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে ভিসা ট্রেডিং, পাসপোর্ট, মেডিকেল খরচসহ যেসব খাতে টাকা নেওয়া বন্ধ করা যায়, সেসব দিকে আমরা নজর দিচ্ছি। এসব বন্ধ হলে ব্যয় কমে আসবে।’

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টসের সভাপতি ফিরোজ মান্না, সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক প্রমুখ।

/আরএআর/এমএনএইচ/