বিচারবিভাগ সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করতে আইনজীবী সমিতির অনুরোধ

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন

বিচারবিভাগ সম্পর্কে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করার অনুরোধ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সবার প্রতি এ আহ্বান জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ও সাধারণ সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সংবাদ সম্মেলনে উভয়ের স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, যদি আইন বিভাগ সংবিধান মোতাবেক আইন প্রণয়ন না করে বা সংবিধান পরিবর্তন করে তবে সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার রয়েছে সেই আইনকে বাতিল করার। তাই রাষ্ট্রের আইন বিভাগ সংবিধানসম্মতভাবে আইন প্রণয়ন করেছে কিনা, শাসনবিভাগ আইন যথাযথভাবে পালন করছে কিনা এসব দেখার এখতিয়ার এবং দায়িত্ব বিচার বিভাগের। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট সব মহলকে বিচারবিভাগ সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করার অনুরোধ করছি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ও সাধারণ সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, এটা দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের প্রথম বার্তা। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করে যাবো।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির একটি বিশেষ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনমন্ত্রী প্রকাশ্যে কিছু বক্তব্য রেখেছেন যাতে করে আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি এবং প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে।

এ সম্পর্কে আইনজীবী সমিতি বক্তব্য জানিয়ে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, প্রশাসন কোনোদিনই চায়নি এখনও চায় না বিচারবিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক। প্রশাসনের যারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছেন, তাদের পরিচালন করেন কিছু আমলা, কিছু লোক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোনও দেশের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যে এত কথা বলেন না। অন্য কোন দেশে প্রধান বিচারপতিরা প্রকাশ্যে এত কথা, এত উষ্মা প্রকাশ করেন না। কোন দুঃখ কষ্ট থাকলে তা প্রকাশ্যে না বলে নির্বাহী বিভাগকে জানান।’

এই কথোপকথনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির বক্তব্য, বিচারিক দায়িত্ব কোনও গোপন বিষয় না। মাসদার হোসেন মামলার পরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে অনেক কথা হয়েছে। বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নের জন্য সর্বোচ্চ আদালত অনেক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরেও চাকরির বিধি বিধান গেজেট আজ পর্যন্ত হয়নি। সরকার এজন্য মোট ৬৭ বার সময় নিয়েছে। সুতরাং প্রধান বিচারপতির গোপনে কিছুই বলার নাই। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারবিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক তা যে চায় না এই সময়ক্ষেপণ তারই প্রমাণ।

/এমটি/ইউআই/টিএন/