বুধবার (৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের বর্তমান চিত্র’ শীর্ষক এক আলোচনায় এসব কথা বলেন সম্পাদক ও সাংবাদিকরা। জাতীয় প্রেসক্লাব এই আলোচনার আয়োজন করে।
প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ও একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মনজুরুল আহসান বুলবুল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘পত্রিকার মালিকরা হঠাৎ করেই বিনা নোটিশে বয়স্ক সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করে থাকেন, যা খুবই অমানবিক। বয়স্কদের বেতন বেশি দিতে হয় বলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু তাদের কোনও পেনশন সুবিধা নেই, ওয়েজ বোর্ড দেওয়া হয় না। সাংবাদিকদের জন্য এই সুযোগ সুবিধা কেন দেওয়া হবে না? তারা তরুণ বয়স থেকেই পত্রিকার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা প্রবীণ হওয়ার পর চাকরিচ্যুত করলে অবসর সুবিধা দিতে হবে।’
পত্রিকার ওপর মালিকদের প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে বিএফইউজে সভাপতি বলেন, ‘প্রফেশনাল সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মালিকদের যদি গুণগত মান থাকে, তাহলে পত্রিকাও মানসম্মত হবে। কিন্তু এখন এমন অনেককেই সম্পাদক বা মালিকের স্থানে দেখা যায় যারা সাংবাদিকতা বোঝেন না। সাংবাদিকদের নিয়োগের সময় সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। একই রকমভাবে গণমাধ্যমের মালিক হওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার নিয়ে যোগ্যতা দেখাতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও মুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন আইন করতে হবে যা গণমাধ্যম বিকাশে সহায়ক হয়। এছাড়া সাংবাদিকদেরও একটি ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়ন দরকার।’
দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সরোয়ার ৫৭ ধারার সমালোচনা করে বলেন, ‘৫৭ ধারার সবচেয়ে খারাপ দিক হলো— এই ধারায় কাউকে আটক করা হলে জামিন পাওয়া যাবে না। আবার সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন হলে বিচার পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের দাবি, সাংবাদিক হত্যা অথবা সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার দ্রুত বিচার আইনে করতে হবে।’
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান সেমিনারে বলেন, ‘১৯৬২ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রথম দিনে মিছিলের স্লোগানে অনেক দাবির মধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিটিও ছিল। আজ ৫৫ বছর পরে ২০১৭ সালে এসেও সেই বিষয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে। আমরা কি সবাই জোর গলায় বলতে পারব, পাকিস্তান আমলে আমাদের যেসব সমস্যা ছিল সেগুলোর সমাধান হয়েছে? আমি বলতে চাই, ওই সমস্যাগুলো থেকে আমরা এখনও মুক্তি পাইনি। আমাদের সমস্যা আছে, আমাদের ওপর চাপ আছে, কিছুটা ভয়ভীতিও আছে।’
গণমাধ্যমের ওপর চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘স্টেট অ্যাক্টর ও নন-স্টেট অ্যাক্টর— দুই রকমই আছে। স্টেট অ্যাক্টর কি উপস্থিত মন্ত্রী ইনু সাহেব, নাকি বাইরে আরও কেউ আছে? আর নন-স্টেট অ্যাক্টর কারা, আমরা জানি না। সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়, সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানো হয়, তাদের জামিন দেওয়া হয় না। জামিনের জন্য সারাদেশে সাংবাদিকদের ছোটাছুটি করতে হয়। এর পিছনেও কি কোনও স্টেট অ্যাক্টর আছে?’
আরও পড়ুন-
মুক্ত সাংবাদিকতার হুমকি ৫৭ ধারা
আজ মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: মুক্ত নয় গণমাধ্যম
মুক্তচিন্তা বাধাগ্রস্ত হয় এমন সম্প্রচার নীতিমালা হবে না: ইনু
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ থাকবে: আইনমন্ত্রী
/আরএআর/টিআর/