বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৮০ কোটি ডলার তহবিল রাখতে রাজি কাতার

বাংলাদেশ ব্যাংকদীর্ঘ পাঁচ বছর আলোচনার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৮০ কোটি ডলার তহবিল রাখতে রাজি হয়েছে কাতার। বুধবার (৩ মে) দেশটি এ আমানত রাখার বিষয়টি বাংলাদেশকে জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমানত রাখার জন্য দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে হবে। এই বিষয়ে কাতার আজ আমাকে জানিয়েছে, তারা এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত।’

আসুদ আহমেদ বলেন, ‘এ সমঝোতা স্মারকটি ঢাকা প্রস্তাব করেছিল। সেটি কাতার মেনে নিয়েছে। এখন এটি আমি স্বাক্ষর করতে পারি অথবা ঢাকা থেকে কেউ এসে স্বাক্ষর করতে পারে। আমি বিষয়টি ঢাকায় জানিয়েছি। তাদের পরামর্শমতে আমি কাজ করব।’

তহবিল কবে নাগাদ আসতে পারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ সমঝোতা স্মারকটি দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতার জন্য করা হচ্ছে। এর একটি ধারায় ১৮০ কোটি ডলার রাখার বিষয়টি বলা আছে। এখন এ তহবিল কবে, কিভাবে হস্তান্তর করা হবে, সেটি পরে দুই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলোচনা করে ঠিক করবে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী আগামী সপ্তাহে  কাতার আসছেন। তিনি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল-থানির আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ মে কাতার সফর করবেন।’ তিনি আরও বলেন,  ‘দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে সোমবার। মাহমুদ আলী কাতারের জ্বালানি ও শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। এছাড়া, আমরা কাতারের আমির বা উপ-আমিরের সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেছি। আশা করি, তাদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখা হবে।’

কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির ঢাকা সফরের জন্য আমরা অনেকদিন ধরে  অপেক্ষা করছি। এ বছরের মধ্যেই তার ঢাকা সফরের চেষ্টা করছি। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।’  তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাতার সফর রাজনৈতিক বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা বোঝা যায়। বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিনদিন বাড়ছে। সামনের দিনগুলোয় এটি ভিন্ন মাত্রা পাবে।’

রূপান্তরিত তরল গ্যাস বা এলএনজি আমদানির জন্য কাতারের সঙ্গে ২০১১ সালে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এর মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করছি। বিষয়টি এতদিন পিছিয়ে ছিল। কারণ এলএনজি রাখার জন্য আমাদের কোনও টার্মিনাল ছিল না। এখন একাধিক প্রতিষ্ঠান এলএনজি টার্মিনাল তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ফলে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে সক্ষম হব।’

২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ জন্য কাতারে শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে, আমরা দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী। ২০২২ সালের জন্য কাতারে অনেক নির্মাণ কাজ হচ্ছে। এখানে অনেক বাংলাদেশি কাজ করছেন। কিন্তু এ কাজ শেষ হয়ে গেলে তাদের আবার দেশে ফেরত যেতে হবে। সে কারণে আমরা এমন দক্ষ শ্রমিক এখানে পাঠাতে চাই, যাদের চাহিদা বিশ্বকাপ হয়ে যাওয়ার পরেও থাকবে।’

কাতারের একটি বৃহৎ কোম্পানি কাতার ইলেক্ট্রিসিটি অ্যান্ড ওয়াটার কোম্পানি তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে জানিয়ে আসুদ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে তারা প্রকৌশলী নিয়োগ করতে আগ্রহী। গত সপ্তাহে আমি কাতার ইলেক্ট্রিসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচলক ফাহাদ হামাদ আল-মোহান্নাদির সঙ্গে দেখা করেছি।  তিনি আমাকে জানিয়েছেন, তারা মোট লোকবলের ২০ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে আনতে চান।  যারা আগ্রহী তারা সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।’ কোম্পানিটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতে বিনিয়োগেও আগ্রহী বলে রাষ্ট্রদূত জানান।

/এমএনএইচ/