এর আগে, চাল আমদানিতে শুল্ক নির্ধারণে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। বিগত সময়ে ভারত থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হতো বলে জানায় খাদ্য মন্ত্রণালয়।
চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চালকল মালিকদের দাবিতে ট্যাক্স বসিয়েছিলাম, কোনও দেশেই নিত্য প্রয়োজনীয় কোনও কিছুর ওপর সাধারণত ট্যাক্স থাকে না, আমাদেরও দীর্ঘদিন ছিল না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফা লাভের আশায় চাল আমদানি করায় ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে আগের অবস্থায় এ ট্যাক্স উঠিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব সরকারের কাছে দিয়েছি। বিষয়টি তাদের বিবেচনায় আছে। মনে করছি ট্যাক্সটা কমে গেলে দাম বাড়ানোর কারসাজি কমে যাবে।’
খাদ্যমন্ত্রী জানান, ট্যাক্স আরোপের আগে ১৫ লাখ টন ধান ভারত থেকে আসতো। এ চাল আসাতে কৃষকরা মার খাচ্ছে। তাই ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছিল। এবার দেখছি, বাজার অস্থির করে সংকট তৈরি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। আগের অবস্থায় যদি ফিরে যাই তাহলে এই সংকট যারা সৃষ্টি করতে চায় তারা পিছু হটবে। তবে এ প্রস্তাবটা সাময়িক বলেও জানান কামরুল ইসলাম।
মন্ত্রী বলেন, ‘চাল সংগ্রহে যে দর দেওয়া আছে তাতে চাল সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন মিল মালিকরা। এবার এক কোটি ৯১ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। হাওর ও অন্যান্য অঞ্চলে দুর্যোগে ১৫ লাখ ধান নষ্ট হতে পারে, তারপরও এখনও আমরা কমপক্ষে এক কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করতে পারবো। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিন পরপর মিলগুলোকে প্রতিবেদন দিতে হয় কত চাল আছে। সে প্রতিবেদনের সঙ্গে মিল না থাকলে বা সন্দেহ হলে মালিকরা তদন্ত করতে বলেছেন। অসাধু কিছু ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে চালের মূল্যে তারতম্য হয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, চালের মজুদে কোনও সমস্যা নেই। বর্তমানে সাড়ে পাঁচ লাখ টন মজুদ আছে। এখন নতুন চাল উঠবে। দেশে কোনও সংকট নেই। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চাইলে ছাড় দেওয়া হবে না।
চালের বাজার নজরদারিতে দুর্বলতা রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজমন্ত্রী এ বিষয়টি দেখছেন।’
সভায় চালকল মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা এবং খাদ্য অধিদফতরের ডিজি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/এসএমএ/টিএন/আপ-এমও/