রামপালের দূষণে ৪০ বছরে ৬ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হবে: গ্রিনপিস

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বায়ু দূষণে ৪০ বছরে ৬ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হবে ও ২৪ হাজার শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মাবে। শুক্রবার (৫ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার, বয়স্কদের হৃদযন্ত্রের ও শ্বসনতন্ত্রের রোগের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাসের উপসর্গের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন সুলতানা কামালঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে বায়ু দূষণ, বিষাক্ততা ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুন্দবন রক্ষা কমিটির উক্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে তা দেশের বায়ু দূষণের একক বৃহত্তম উৎস হবে উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘অসত্য প্রচারণা ও গায়ের জোরে সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করছে। এই দূষণের কবলে পড়ে ৪০ বছরে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। এছাড়া, বছরে ৬শ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মাবে।’

সুলতানা কামাল আরও বলেন, ‘রামপালে প্রস্তাবিত ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সারাদেশের বায়ু দূষণকারী উৎসের মধ্যে বৃহত্তম একক উৎস হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদগীরণ সুন্দরবন ইকো সিস্টেমসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের খুলনা, অশোক নগর, কল্যাণগড়, সাতক্ষীরা, বেগমগঞ্জ, বশিরহাট, নরসিংদী, নোয়াখালী, বাসীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপরের বাতাসে বিষাক্ত ধূলিকণার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে ঢাকা ও কলকাতার বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বায়ুদূষণে মারাত্মক আক্রান্ত হবে। কর্মঘণ্টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার, বয়স্কদের হৃদযন্ত্রের ও শ্বসনতন্ত্রের রোগের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাসের উপসর্গের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

পরিবেশ বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা গ্রিনপিসের কয়লা ও বায়ু দূষণ বিশেষজ্ঞ লরি মাইলিভিরতা’র রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে করা গবেষণায় এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির অনুরোধে তিনি এই গবেষণাটি করেছেন। এ সময় লরি মাইলিভিরতা স্কাইপের মাধ্যমে তার গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

লরি মাইলিভিরতা বলেন, ‘আগামী ৪০ বছরে এসব প্রাণহানি ও কম ওজনের শিশুর জন্ম হবে।’ বাংলাদেশে বায়ুদূষণ যদি নাও থাকে, তবু এসব ঘটনা ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুন নাহার প্রমুখ।

/আরএআর/এমও/