‘এই স্যাটেলাইট দক্ষিণ এশিয়ার চেহারা পাল্টে দেবে’

দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি- ফোকাস বাংলা)দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ দক্ষিণ এশিয়ার চেহারা পাল্টে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে। এর আগে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে বেশকিছু বিষয়ে সফল হয়েছে। আশা করছি, এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেও আমরা সফল হবো। আমি বিশ্বাস করি, এই স্যাটেলাইট এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বদলে দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার চেহারাই পাল্টে দেবে।’
শুক্রবার (৫ মে) সন্ধ্যায় দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন।
ভিডিও কনফারেন্সে ব্ক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারত সফরে আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আমি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। ওই সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। আজ নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আবারও যুক্ত হয়ে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। এছাড়া, ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের বন্ধুপ্রতীম সরকারপ্রধানদেরও আমি শুভেচ্ছা জানাই।’
সফলভাবে দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় আপনাকে এবং আপনার দেশের জনগণকে আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগেই আমরা দুই দেশের মধ্যে মহাকাশ বিষয়ক চুক্তি সই করেছি। আমরা ভূমি ও পানির পাশাপাশি মহাকাশেও এখন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে এই স্যাটেলাইট সহযোগিতার মাত্রা আরও বাড়াবে বলেও আশা করছি। আমি বিশ্বাস করি, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের স্বার্থ এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করবে।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি নিশ্চিত করতে আমরা এই অঞ্চলের সব দেশের মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই।’
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, এসময় কনফারেন্সে যুক্ত ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা (ছবি- ফোকাস বাংলা)ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি রাখার দিন। দুই বছর আগে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের উন্নয়নের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ সেই প্রতিশ্রুতির পূরণ। এর মাধ্যমে আমরা সহযোগিতার নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি করলাম। আমাদের মধ্যে সহযোগিতার নমুনা এখন মহাকাশে উড্ডীয়মান থাকবে।’
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান নিজেদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, সুশাসন, উন্নত ব্যাংকিং সেবা ও উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে।’
ভিডিও কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুস্পকুমার দহল, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোগগে এবং আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি।
সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে উন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের আশাবাদ জানিয়ে দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্স শেষ করেন নরেন্দ্র মোদি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরে সার্ক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেন এবং সার্কের অন্য সাতটি দেশকে বিনামূল্যে এর সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান। এই স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য বিজ্ঞানী ও অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারত তাদের সহযোগিতা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে পাকিস্তান এই ইস্যুতে সরে দাঁড়ালে সার্ক স্যাটেলাইটের বদলে এর নামকরণ করা হয় দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট। সে কারণেই এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে পাকিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি সাতটি দেশই অংশ নেয়।

আরও পড়ুন-

দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট মহাকাশে

দক্ষিণ এশীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ আজ, ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

/ইউআই/পিএইচসি/টিআর/