নারী অগ্রগতির ক্ষেত্রে সবাইকে এক হয়ে কথা বলতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

18378888_10154624894725773_635249709_oকৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের দলমত ও বিশ্বাস ভিন্ন হতেই পারে। তবে নারী অগ্রগতির ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কথা বলতে হবে।’ শনিবার (৬ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে পাক্ষিক পত্রিকা ‘অনন্যা’ এর পক্ষ থেকে এ বছরের ১০ জন নারীকে সম্মাননা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
নারীর চোখে বিশ্ব দেখার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে পাক্ষিক পত্রিকা অনন্যা। ১৯৯৩ সাল থেকে পত্রিকাটি অনন্যা শীর্ষ ১০ সম্মাননা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর দেশের ১০ জন নারীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনীতি, অভিনয়, সঙ্গীত, খেলাধুলা, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজকল্যাণ ও উন্নয়নমুখী কাজ, আইন ও মানবাধিকার, উদ্যোক্তা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা, প্রবৃদ্ধি অঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এ অনন্যা সম্মান প্রদান করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও ১০ জন নারীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
এ বছর যাদেরকে যেসব ক্ষেত্রে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, শিক্ষায় সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক পারভীন হাসান, রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, বিজ্ঞান ও গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ, অভিনয়ে কাবেরী আলম মোতাহের, উদ্যোক্তায় শোলাশিল্পী মুশা রানী মালাকার, প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মী আশরাফুন নাহার মিষ্টি, আদিবাসী অধিকার কর্মী বাসন্তী মুর্মু, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় সুরমা জাহিদ, খেলাধুলায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং অদম্য সাহসী হিসেবে নওগাঁর ঘোড়সওয়ার তাসনিনা আক্তার। তাদেরকে সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় পরানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান এবং মুক্তিযোদ্ধা ও কবি কাজী রোজি।
অনুষ্ঠানে পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের ছোট কাগজ, ছোট পরিসর, তার ভেতর থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি ‘নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারীদেরকে পুরস্কৃত করার। আগে আমাদেরকে খুঁজতে হতো। কিন্তু এখন অনেক বেশি নারীদের কথা জানি যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। গত ১০ বছরে নারী অগ্রগতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাই মনে হয় যে, ২৫ বছর পরে আর এই শীর্ষ ১০ পুরস্কার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
এদিকে অনুষ্ঠানে কেবল নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ছাড়া অন্য ৯ জনই উপস্থিত হয়ে সম্মাননা নিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই বলেন, ‘এ সম্মাননা তাদের কাজের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দিলো।’
/জেএ/এআর/টিএন/