বিচারিক আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষ বারবার সময়ের আবেদন করায় কিছুটা বিরক্ত আদালত। আজ সোমবার আদালতে গেজেট জমা দেওয়ার পরিবর্তে ফের সময়ের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আড়াই বছর ধরে এ বিষয়ের সুরাহ করতে না পারায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমপার সিনহা আজ প্রশ্ন করেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবনের দূরত্ব কতটুকু?’
পরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ গেজেট প্রকাশে আরও এক সপ্তাহ সময় দেন। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি এ প্রশ্ন করেন।
গত বছর নভেম্বরে থেকে শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বেশ কয়েক দফা সময় নেয়। সোমবার এ বিষয়ে আরও সময় লাগবে জানালে অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর কোনটা?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, টোকিও। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার জানা মতে নিউ ইয়র্ক।’ নিউইয়র্ক শহরের এক প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত যেতে কত সময় লাগে প্রশ্ন করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট থেকে গণভবন বা সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবনের দূরত্ব কত? আমার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর ঢাকা। যে কাজ আড়াই বছরে হয়নি তা আগামী আড়াই হাজর বছরেও হবে না।’
এসময় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘আইন সরকারকেই করতে হবে। আপনি না পারলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের দিয়ে মামলা পরিচালনা করান।’
এর আগে গত মার্চ মাসে অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের পর আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান বড়। রাষ্ট্রের পক্ষে একটা একটা ফেয়ার প্লে-এর বিষয় আছে। একটা যৌক্তিক কারণ থাকবে তো।’
তিনি শেষবারের মতো সময় দেওয়ার পর আবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘এটা কি? সরকার কি আছে! বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখছেন তো।’
২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করতে শেষ বারের মতো দিন পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিলেন আদালত। তার আগেও গেজেট প্রকাশে কয়েক দফা সময় নেয় সরকার।
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে বিচারিক আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।
প্রসঙ্গত, বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ।
/এমটি/ইউআই/এসটি/