এবার সীমান্তে লেজার ওয়াল ও স্মার্ট সেন্সর বসাচ্ছে বিএসএফ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। এজন্য প্রয়োজনে লেজার ওয়াল ও স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তিও ব্যবহার করবে সংস্থাটি। সম্প্রতি বিএসএফ এর একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সীমান্তে বিএসএফসূত্রটি দাবি করেছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তের বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করবে বিএসএফ। পাশাপাশি নদী বা জলাভূমিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তারা। যেসব অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না সেসব অঞ্চলে লেজার ওয়াল ও স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে যা রাতে এমনকি কুয়াশার মধ্যেও সক্রিয় থাকবে। সূত্রটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকেও (বিজিবি) নিজেদের এলাকায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, লেজার ওয়াল ও স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তি এই প্রথম এই অঞ্চলে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া গেছে।
বিএসএফ এর সূত্রটি জানায়, ২০১৮ সালের মধ্যে এই কর্মসূচি সফল করতে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয় প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও দাবি করেছে সূত্রটি।
সূত্রটি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার হলে ভালো বাণিজ্য, পর্যটন ও উভয় দেশের মানুষের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করবে। যা কানেক্টিভিটিও বাড়াবে। স্পষ্টভাবে কমবে বাংলাদেশ বা ভারতে বোমা ও মাদকপাচার। এছাড়া নারী ও শিশু পাচার, জালনোট চক্র বা গরু পাচারকারীদের কর্মকাণ্ডও কমে আসবে। এছাড়াও কমে আসবে দুই দেশের মধ্যে গুলি বিনিময় যা উভয় দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় স্পর্শকাতর ইস্যু।
ধারণা করা হচ্ছে, উর্দিপরা কর্তৃপক্ষের হাতে উভয় দেশের নাগরিকদের হয়রানিও কমবে। এটাও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে দিল্লির কঠোর নির্দেশের পর বিএসএফ অনিয়ম ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমস্যা মোকাবিলায় স্পর্শকাতর অঞ্চলে আরও ধৈর্য্য ধারণের পথ অবলম্বন করছে।
/টিএন/আপ-এমও/