বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ নামে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা অর্থহীন এবং এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিএনপির দার্শনিক শক্তি নেই বলে মন্তব্য করেছে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে বিএনপির ভিশন নিয়ে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘খালেদা জিয়া টানা ১০ বছর দেশ শাসন করেছেন। তার শাসনামলে যে দুর্নীতি, নৈরাজ্য, হত্যা, খুন, গুম হয়েছে ভিশন ঘোষণার আগে সেসব বিষয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কারণ হাওয়া ভবন ছিল দুর্নীতির শিল্প। তার দুই ছেলের দুর্নীতি আদালতে প্রমাণিত। তার শাসনামলে অপারেশন ক্লিনহার্টের মাধ্যমে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা বৈধ্যতা দেওয়া হয় ।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার ভিশনে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার বলতে যা বলেছেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। এ সংক্রান্ত তার প্রস্তাব ফাঁকাবুলি, যা ষড়যন্ত্রের শামিল। সংবিধানের ১৫তম ও ১৬তম সংশোধনীতে কী কী পরিবর্তন আনবেন, তা তিনি পরিষ্কার করে বলেননি। তাতে মনে হয়, আমরা যে জঞ্জালগুলো দূর করেছি উনি সেই জঞ্জালগুলোকে পুনঃস্থাপন করার ষড়যন্ত্র করছেন।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার কোনও পরিকল্পনা তার প্রস্তাবে নেই। তিনি আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় থেকেও পাহাড়ি শান্তি চুক্তি বাতিল করেননি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, অপারেশন ক্লিনহার্টের বিচার, শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার বিচার না করে এ সমস্ত অপরাধের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়ে ন্যায় বিচার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করেছেন।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমান দুজনই তাদের শাসনামলে সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দিয়েছেন।’
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আইসিটি নিয়ে খালেদা জিয়া তার প্রস্তাবে যে কথা বলেছেন তা ভূতের মুখে রাম নাম। ওনার শাসনামলে কৃষকদের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। উনি না গণতান্ত্রিক, না দেশপ্রেমী। এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে নৈতিক ও দার্শনিক যোগ্যতার কোনোটাই তার নেই। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের পাশে রেখে পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি পাকিস্তানের যোগ্য দালাল।’
/এসআই/এসএনএইচ/ এপিএইচ/