এবার দিলদার ও সাফাতের ব্যাংক হিসাব তলব করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের পর এবার বাংলাদেশ ব্যাংক আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের সব ব্যাংক হিসাব চেয়ে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ একথা জানিয়েছেন।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দারা বেশ কয়েকদিন ধরে কাজ করছেন। এরই অংশ হিসেবে তাদের লেনদেনের যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোর কাছে। শুধু ব্যাংক হিসাবই নয়, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর বাইরে তারা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মে) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্যাদি চেয়ে চিঠি দেয়। একই দিন পুলিশও তাদের যাবতীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে।

চিঠি প্রসঙ্গে দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, ‘চিঠির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অপেক্ষা করে না। যখন গণমাধ্যমে আপন জুয়েলার্স নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে আমরা তখন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

গত সপ্তাহে প্রত্যেক ব্যাংককের সংশ্লিষ্ট বিভাগে টেলিফোন করে মালিক দিলদার আহমেদ ও সাফাত আহমেদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহারে বলা আছে, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এই দৃশ্য সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সাফাত আহমেদের ছয় ও সাদমান সাকিফকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত।

/জিএম/এসটি/