একটি মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের গর্বিত ইতিহাস রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিকে মৌলবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেন মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই কংগ্রেসম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ইসলামের অনুসারী হলেও কোনও কোনও মধ্যপন্থী জাতির তুলনায় তাদের অধিক গর্বের ইতিহাস রয়েছে। তাদের সচেতন হতে হবে। মৌলবাদের মতো ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাওয়া তাদের উচিত। সেটা নিজ সীমানার ভেতরে এমনকি বাইরে হলেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মার্কিন কংগ্রেসে জোসেফ ক্রাউলি বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে সুপরিচিত। কংগ্রেসে তিনি নিউ ইয়র্কের কুইন্স এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিকের বসবাস। কংগ্রেসের ভেতরে এবং বাইরে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপারে সবসময়ই সরব এই কংগ্রেসম্যান।
বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প এবং গার্মেন্ট কর্মীদের অবস্থা নিয়েও সচেতন ডেমোক্র্যাটিক দলীয় এই আইনপ্রণেতা। বাংলা ট্রিবিউন-এর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রাথমিক অগ্রগতিতে আমি সন্তুষ্ট। প্রাথমিকভাবে রেকর্ড সংখ্যক শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের সমস্যা মোকাবিলার মতো ইস্যুতেও কাজ শুরু হয়েছে। অবশ্য এরপরও কিছু অসুবিধা রয়েছে। ’
জোসেফ ক্রাউলি বলেন, ‘আমি আরও অগ্রগতি দেখতে চাই। বাংলাদেশে এখনও শিশুদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমি মনে করি, জিএসপি অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী এখনও আরও অগ্রগতির প্রয়োজন রয়েছে। ’
কিছু বিষয়ে আশাবাদের কথাও জানান কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি। তার প্রত্যাশা, কম বয়সী শিশুদের চাকরিতে না পাঠানোর মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশ বাস্তব অগ্রগতির একটা দৃষ্টান্ত তৈরিতে সমর্থ হবে। সরকার একটি শ্রমমান প্রতিস্থাপন করবে, যাতে করে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার মতো বিষয়গুলো প্রতিরোধ করা যায়। ব্যাপক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এমন যে কোনও ধ্বস বা অগ্নিকাণ্ড রোধে এই শ্রমমান কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
/এমপি/ এপিএইচ/