একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে এই মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য শুরুর জন্য ৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এসময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান। আর আটক চার আসামির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।
অভিযুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন খান আকরাম হোসেন (৬০), শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন (৬২), ইদ্রিস আলী মোল্লা (৬৪) ও মো. মকবুল মোল্লা (৭৯)।
আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে ২২ জানুয়ারি এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, অভিযুক্তরা মুক্তিযোদ্ধাসহ ২২ জনকে হত্যা, ৪৫-৫০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের পর আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, দুজনকে অমানুষিক নির্যাতনে গুরুতর জখম করা এবং চার নারীকে দীর্ঘদিন রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রেখে ধর্ষণ করার মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মে-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাগেরহাটের কচুয়া ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় তারা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ মামলায় পলাতক ৯ আসামি হলেন, খাঁন আশরাফ আলী (৬৫), সুলতান আলী খাঁন (৬৮), মকছেদ আলী দিদার (৮৩), শেখ ইদ্রিস আলী (৬১), শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল (৬৪), রুস্তম আলী মোল্লা (৭০), মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার (৬৯), মো. হাশেম আলী শেখ (৭৯) ও মো. আজাহার আলী শিকদার (৬৪)।
/এমটি/ইউআই/এসটি/