বিমানে প্রধানমন্ত্রীর স্যুপের ফ্লাস্কের ট্যাগ ছিল, তালিকায় ছিল না

বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সভিয়েনা যাওয়ার সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে প্রধানমন্ত্রীর খাবারের মধ্য থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ফিরিয়ে দেওয়া স্যুপের ফ্লাস্ক দু’টির নম্বরসহ ট্যাগ ছিল। তবে ফ্লাইটে যিনি খাবারগুলো গ্রহণ করেন তার কাছে থাকা তালিকায় স্যুপের ফ্লাস্কের ট্যাগ নম্বর ছিল না। এ কারণেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় স্যুপের ফ্লাস্ক। তবে স্যুপের ফ্লাক্স দু’টির ফরেনসিক বা অন্য কোনও ধরনের পরীক্ষা হয়নি। যদিও এ ঘটনার তদন্তে দু’টি কমিটি গঠিত হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) সহকারী ম্যানেজার (অপারেশন্স) নুরুল মোমেন মিয়াকে। বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিমান সূত্র জানায়, ফ্লাইটের খাবার সরবহরাহ করে থাকে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি)। প্রধানমন্ত্রীর বহরে খাবার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরবরাহ করা হয়। খাবার প্রস্তুত থেকে সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে। খাবার প্রস্তুত শেষে বিমানের মেডিক্যাল অফিসার ও সিভিল সার্জন সে খাবার খান, তিন ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে তাদের কোনও ধরনের শারীরিক ক্ষতি না হলে তখন খাবারগুলো প্যাকেট করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেই প্যাকেট করা খাবারগুলো নম্বর দিয়ে সিল করা হয়। এরপর ফ্লাইটের সব খাবার একটি রুমে সিলগালা করে সংরক্ষণ করা হয়। নম্বরসহ তালিকাটি উড়োজাহাজে খাবার গ্রহণকারী নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়। ফ্লাইট ছাড়ার আগে নির্দিষ্ট সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই খাবারগুলো ফ্লাইটে নেওয়া হয়। তালিকা থাকা নম্বর দেখে ফ্লাইটে উঠানো হয় প্রতিটি খাবার।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী অস্ট্রিয়াগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে স্যুপের ফ্লাস্ক দু’টি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয় পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটেতে উপ-সচিব মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীকে প্রধান করে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এ কমিটিকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখপূর্বক তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিমানের গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) মাকসুদুর রেজার নেতৃত্বে। এরই মধ্যে এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানান মাকসুদুর রেজা।
বিমান সূত্র জানায়, ভিয়েনায় যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া স্যুপের ফ্লাস্ক দু’টি ফ্লাইট থেকে থেকে ফেরত দেয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স)। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে থাকা তালিকায় স্যুপের ফ্লাস্ক দু’টির নম্বর উল্লেখ না থাকায় তা ফেরত দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে বুধবার (৩১ মে) সচিবালয়ে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।’
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘স্যুপের ফ্লাস্কে সিকিউরিটি চেক শেষে ট্যাগ লাগানো হয়েছিল। এখন ফ্লাস্কগুলো বিমানের কাছেই রয়েছে। কোথাও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি।’

এ প্রসেঙ্গ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিসিটিভির ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। ফ্লাইটে ওঠানোর আগে প্রতিটি খাবারের প্যাকেট নম্বরসহ সিল করা হয়। যারা সিল করেছেন তাদের কাছে সিল নম্বরের তালিকা থাকে। উড়োজাহাজে যারা খাবারগুলো রিসিভ করেন, তাদের কাছেও সেই তালিকা পাঠানো হয়।’ মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘স্যুপের ফ্লাস্কের সিল করা হয়েছিল। সিল করা খাবার একটি রুমে তালা মেরে রাখা হয়। কিন্তু স্যুপের ফ্লাস্কের সিল নম্বর যিনি ফ্লাইটে রিসিভ করবেন, তার তালিকায় ছিল না। আর যেহেতু তার তালিকায় ফ্লাস্কের নম্বরটি ছিল না, তাই তিনি ফ্লাইটে ফ্লাস্ক রিসিভ করেননি।’

আরও পড়ুন-

প্রধানমন্ত্রীকে ইফতারের আমন্ত্রণ খালেদা জিয়ার

ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংসদে হাজিরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


/টিআর/