বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, প্রস্তাবিত ৪ লাখ ২শ’ ৬৬ কোটি টাকার বাজেটটি আকারে আসলেই বড়। কিন্তু বড় হলেও সাধারণ মানুষ তথা নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তকে ফাঁকি দিয়েছে। তাদের জন্য কিছুই নেই। এই বাজেট উচ্চবিত্তদের জন্য। আর বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির বড় মাধ্যম।
শনিবার (০৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, এ বাজেট দেখতে একটি বড় সুন্দর বেলুন। দেখতে যতই বড়, ভেতরে ততই ফাঁকা। সাধারণ মানুষ তথা নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের জন্য কিছুই নেই। সাধারণ মানুষকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। একটি অনির্বাচিত সরকারের এই ধরনের বাজেট দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার আছে কিনা সেটাই একটি বিরাট প্রশ্ন।
উন্নয়ন খাতের চাইতে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় প্রায় দেড়গুণ বেশি ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কখনোই জনগণের বাজেট হতে পারে না। এ বাজেটে ঘাটতি রয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকের আমানতের ওপর কর আরোপ করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত দুই বছরে এমনিতেই ৩৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আবার আমানতের ওপর অতিরিক্ত কর বসানোর ফলে মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রাখবে না। এতে বোঝা যাচ্ছে সরকারই চায় না দেশের মানুষ ব্যাংকে টাকা আমানত হিসেবে জমা রাখুক। সরকারই বিদেশে টাকা পাচার করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন, সব ব্যবস্থা করেছেন।
এ বাজেটে দুর্নীতি দমন করার কোনও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নাই, এটি বাজেটটির বড় দুর্বলতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাছের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।
/আরএআর/টিএন/