সৌদি আরব-কাতার বিরোধে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের ক্ষতি হবে না

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকসৌদি আরব-কাতার বিরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের কোনও ক্ষতি হবে বলে মনে করেন না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সোমবার কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর একযোগে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। মধ্যপ্রাচ্যের এদেশগুলোতে কয়েক মিলিয়ন বাংলাদেশি কর্মরত আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোর বিরোধে বাংলাদেশ কোনও অবস্থান নেবে না।

এ বিরোধে বাংলাদেশের শ্রম বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কোনও সম্ভাবনা নেই।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি ক’টনীতিকদের অবহিত করেছে সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরস্পর বিরোধী এই দুদেশ মঙ্গলবার (৬ জুন) বাংলাদেশসহ বিদেশি ক’টনীতিকদেরকে তাদের (সৌদি আরব ও কাতার) স্ব স্ব অবস্থান এবং কেন এ ঘটনার উদ্ভব হলো তার ব্যাখ্যা দিয়েছে।

একটি কূটনৈতিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এশিয়ান ক’টনীতিকদের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিং সেশনে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানায়, ১৯৯৫ সালে কাতার একটি চুক্তি সই করে। তাতে বলা আছে কাতার সন্ত্রাসীদের সমর্থন করবে না এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। কিন্তু তারা একাধিকবার এ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে তারা (সৌদি আরব) ক’টনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র আরও জানায়, এর আগে ২০১৪ সালে কাতার থেকে সৌদি আরব তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলেও সম্পর্ক ছিন্ন করেনি কিন্তু এবার তারা সেটি করেছে।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাতারের জনগণের সঙ্গে তাদের কোনও বৈরিতা নাই। তাদের অভিযোগ কাতারের সরকারের বিরুদ্ধে। কাতার সরকার যদি সহযোগিতা করে এবং তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তবে সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

তিনি  বলেন, অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন কাতার বিষয়ে একটি বিশেষ সেশন আহ্বান করতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরেকটি কূটনৈতিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, কাতারের পররাষ্ট্র সচিব মঙ্গলবার বিদেশি ক’টনৈতিকদের ব্রিফ করেছেন। সেখানে কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদও অংশগ্রহণ করেন।

ওই কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য-কাতারের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, কয়েকটি আরব ও আরবের বাইরের দেশ কাতারের সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে চাইছে। কুয়েতের আমির বর্তমানে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বিষয়টির মধ্যস্থতা করতে চাইছেন এবং কাতার আশা করে বর্তমান মতবিরোধ দ্রুত সমাধান হবে।

এদিকে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর মহাসচিব সোমবার (৫ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  কাতারসহ সব সদস্যকে ওআইসি চার্টার মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান।

/এপিএইচ/