অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে তাহজীব আলম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শাসনে সংখ্যাগুরুর মতামত না থাকলে বাজেট অর্থহীন। জনগণের আস্থার প্রতি কেন এই অসংবেদনশীলতা। অর্থমন্ত্রীকেও তো নির্বাচন করতে হয়। জনগণের কাছে যেতে হয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অনড় অবস্থান বলে কিছু নেই। এটি সামরিক জান্তারা করতে পারে। গণতান্ত্রিক সরকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বাজেট করে। জনমতকে আমলে নিয়ে করতে হয়।’
করমুক্ত আয় সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির হিসাব করলে দেখা যাবে, করমুক্ত আয় সীমা আসলে কমে গেছে। মধ্যবিত্তের ওপর বেশি চাপ দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিকে তাকালে বলতে হবে, বাজেট বাস্তবভিত্তিক হয়নি। ভ্যাট আইন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এটি প্রতিশ্রুতি ছিল কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনও প্রতিফলন নেই। ভ্যাটের হার কমানোর আশা দিয়েও না কমিয়ে হতাশ করা হয়েছে। এই বাজেট মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়াবে। ভোট সামনে রেখে এই বাজেটের কৌশল মোটেও সুখকর নয়। শুল্ক হঠাৎ করে বাড়ানো কমানো হয়। এটা বিশেষ বিশেষগোষ্ঠীর সুবিধার জন্য করা হয়।’
সরকারের সহযোগিতা চায় জাপা
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের এমপিরা উন্নয়নে কাজ করতে চাই। কিন্তু আমাদের এমপিরা কাজ করতে পারছেন না। আমরা সরকারি দলের সহযোগিতা চাই। যাতে এলাকায় কাজ করতে পারি। আমরা দেশের উন্নতি করতে চাই। আমরা চাই সরকারি দলের সহায়তা।’
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাজেট মধ্যবিত্তের ওপর নির্ভর করে প্রণয়ন করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের লোকদের ওপর কর ধার্য করা হয়েছে। সব করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়বে। ব্যাংকের টাকা রাখা এবং বিমানের টিকিটের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। কেউ এই বাজেটে খুশি হতে পারেনি। ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের বিতর্ক এবং আবগারি শুল্কের আলোচনায় ইতিবাচক দিকগুলো চাপা পড়ে গেছে। ভ্যাট এভাবে থাকলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। মুদ্রাস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এক হাজার ৪৩টি পণ্য ভ্যাটের আওতামুক্ত করা হয়েছে এটা শুভঙ্করের ফাঁকি ।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবে আবগারি বাড়ানো হয়েছে। মানুষের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি হয়েছে। টাকা কেটে নেবে এই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, আবগারি যাতে আগেরটা থাকে। তাতে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরবে। এর ফলে লেনদেনের অবৈধ মাধ্যম উৎসাহিত হবে। মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে চাইবে না। অর্থমন্ত্রী সঞ্চয়পত্রে ওপর নজর দিয়েছেন। তিনি সুদ কমানোর কথা বলেছেন। এটা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।’
বাজেট আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শামসুল হক টুকু, সামশুল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাবু, ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ।
/ইএইচএস/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: ব্যাংক আমানতের ওপর শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত অর্থ প্রতিমন্ত্রীর