মানুষের জানের চেয়ে মালের মায়া বেশি: ত্রাণমন্ত্রী

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (ছবি: সংগৃহীত)
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘দুই দিন ধরে মাইকিং করে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়। তারপরও তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা যায়নি। মানুষের জানের চেয়ে মালের মায়া বেশি। তাই তারা মালামাল রেখে আসতে চায় না। তবে এই অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন নিজের উদ্যোগেই অনেকে আসতে শুরু করেছে।’

মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বান্দরবানের পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন। এর মধ্যে ৩৩ জন বেসামরিক। রাঙামাটিতে চার সেনা সদস্য নিহত ও দুই সেনা  নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিহত হয়েছেন- মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর, করপোরাল আজিজ, সৈনিক শাহিন।

মন্ত্রী আরও জানান, রাঙামাটিসহ পার্বত্য এলাকায় ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এগুলোতে সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে।চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বিষয়ে সতর্ক করে মাইকিং

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আহতরা পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।’

সভায় জানানো হয়, বুধবার (১৪ জুন) সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাবেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, সেনাবাহিনীর পক্ষে মেজর মাহফুজুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক শাকিল নেওয়াজ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।রাঙামাটিতে পাহাড় ধস

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুই দিন ধরে মাইকিং করা হয়েছে। যারা ওইসব (পাহাড়ি) এলাকায় ছিল তাদের সতর্কতা দেওয়া হয়। এরপরও তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনা যায় না। এটা রিমোট কট্রোল নয় যে চাপ দিলেই সব হয়ে যাবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সবসময়ই প্রস্তুত ছিলাম। এখনও প্রস্তুত আছি। দুর্যোগ বলে কয়ে আসে না। খাদ্যের অভাব নাই। আর যেন একটি প্রাণও না হারায় সেব্যাপারে সতর্ক আছি। প্রধানমন্ত্রী সর্বক্ষণিক বিষয়টি মনিটরিং করছেন।’

/এসআই/এফএস/এনআই/

আরও পড়ুন-
‘যে বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম সেখানেও পাহাড় ধসে পড়েছে’