সোমবার থেকে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে অনেকেই তা সংগ্রহ করতে পারেননি। কিন্তু, পরদিন মঙ্গলবার (১৩ জুন) কাউন্টারে গিয়ে আর তারা পাননি কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট। গাবতলী বাস টার্মিনাল ও কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। এমনই পরিস্থিতির শিকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুল ওয়াদুদ। কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে তিনি মঙ্গলবার টিকিট কাটতে আসেন গাবতলী হানিফ এন্টারপ্রাইজের উত্তরাঞ্চলের কাউন্টারে। তাকে জানানো হয় ২২ ও ২৩ তারিখের টিকিট নেই। তিনি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘শ্যামলী পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টার থেকেও ঘুরে এসেছি। সেখানেও ২২ তারিখের টিকিট পাইনি। এখন বাধ্য হয়ে ডিপজল পরিবহনের ২৪ তারিখের টিকিট কাটতে হচ্ছে।’
ডিপজল পরিবহনের বেশিরভাগই উত্তরাঞ্চলের বাস। এই পরিবহনের পর্বত কাউন্টারের মোস্তফা মাসুম বলেন, ‘আমাদের ২২ ও ২৩ তারিখের সব টিকিট শেষ। এখন ২৪ তারিখের কিছু টিকিট বাকি আছে।’ হানিফ এন্টারপ্রাইজের উত্তরাঞ্চলের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, সোমবারই তাদের ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখের সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এখন কেবল বিক্রি হচ্ছে ২০, ২১ ও ২৫ তারিখের টিকিট।
কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট পাওয়া ছাড়াও টিকিট পরিবর্তন নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জিনাত আলম শ্যামলী পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টারে এসেছেন ২০ তারিখের টিকেট পরিবর্তন করে ২১ তারিখে নেওয়ার জন্য। কিন্তু কাউন্টার থেকে তার টিকিট পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। কাউন্টার থেকে তাকে জানানো হয়েছে ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখের রাতের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের অগ্রিম টিকিটের হাহাকার থাকলেও এর বিপরীত চিত্র চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলের যাত্রীদের। এসব অঞ্চলে চলাচলকারী বাস কাউন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তাদের সব রানিং বাস, অগ্রিম টিকিট নেই। সোনারতরী পরিবহনের হারুন আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে বরিশাল অঞ্চলের পর্যাপ্ত টিকিট রয়েছে। এই রুটে কেউ অগ্রিম টিকিট নেয় না।’ লঞ্চে যাতায়াতের কারণে এই অঞ্চলের বাসের ওপর চাপ কম বলেই মনে করেন তিনি।
সোহাগ পরিবহনের কর্মী মো. আবীর বলেন, ‘চট্টগ্রামের যাত্রীদের চাপ সারাবছরই সমান। ঈদের সময়ও বাড়তি চাপ থাকে না বললেই চলে।’ বরিশালগামী সুরভী পরিবহন থেকে জানানো হয়, তাদের অনলাইনে ও কাউন্টারে সরাসরি অগ্রিম টিকিট নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে অগ্রিম টিকিটের চাহিদা নেই। শ্যামলী পরিবহনের সিলেট ও চট্টগ্রামের কাউন্টার থেকেও জানানো হয় একই ধরনের কথা। এই পরিবহনের কর্মী শরিফ হোসেন বলেন, ‘সিলেট, চট্টগ্রামের রাস্তা অনেক ভালো। গাড়ির সংখ্যাও বেশি বলে টিকিটের ঘাটতি নেই। এ কারণেই এসব রুটে কেউ অগ্রিম টিকিট নেয় না।’
/এমটি/ইউআই/টিআর/টিএন/আপ-এসএনএইচ/