আঞ্চলিক রুটে অ্যারোনটিক্যাল চার্জে ছাড় পাচ্ছে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো

৫ দেশি এয়ারলাইন্স

আঞ্চলিক রুটের অ্যারোনটিক্যাল চার্জে ছাড় পেতে যাচ্ছে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো। ৩০ হাজার কেজি পর্যন্ত ওজনের উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক ফ্লাইটের অ্যারোনটিক্যাল ফি একই রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য  ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে চার্জ কমানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে সিভিল এভিয়েশন।  বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং, পার্কিং, রুট নেভিগেশন চার্জ, হাউজিং অব এয়ারক্রাফট চার্জ, বোর্ডিং ব্রিজ চার্জ এবং এম্বারকেশন চার্জ নেওয়া হয় অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ। দেশি বিদেশি এয়ারলাইন্স থেকে এসব চার্জ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সিভিল এভিয়েশনের আয়ের উৎস।

দেশীয় এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর বেস স্টেশন ঢাকাতেই। দেশীয় এয়ারলাইন্স রয়েছে ৫টি। ফলে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক যে কোনও ফ্লাইট শেষে দেশেই উড়োজাহাজকে ল্যান্ডিং করতে হয়। বর্তমানে  দেশের ভেতরে ফ্লাইট শেষে একটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজকে ল্যান্ডিংয়ের জন্য  ২ হাজার ৪০৩ টাকা চার্জ দিতে হয়। কিন্তু একই উড়োজাহাজকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শেষে দেশের যে কোনও বিমানবন্দরে ল্যান্ডিংয়ের জন্য ৩৩ হাজার ৯২৪ টাকা চার্জ দিতে হয়। এছাড়া, দেশের ভেতরে ফ্লাইট শেষে  প্রতিবার  ল্যান্ডিংয়ের জন্য একটি এটিআর-৭২ উড়োজাহাজকে দিতে হয় ৩ হাজার ৯২২ টাকা,  এমব্রয়ার-১৪৫ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ৪ হাজার ১৭৫ টাকা, বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ১৮ হাজার ৬১৯ টাকা, এমডি-৮৩ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ১৯ হাজার ১৪৬ টাকা, এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ৫২ হাজার ৩৩১ টাকা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শেষে দেশের ভেতরে যে কোনও বিমানবন্দরে ল্যান্ডিংয়ের জন্য একটি এটিআর-৭২ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ৪৬ হাজার ৩১৫ টাকা, ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ৩৩ হাজার ৯২৪ টাকা, এমব্রয়ার-১৪৫ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ৪৬ হাজার ৮৩২ টাকা, বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের জন্য দিতে হয় ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। দেশীয় এয়ারলাইন্সকে যে কোনও ফ্লাইট শেষে দেশেই ফিরতেই হয়, ফলে আন্তর্জাতিক হারে চার্জের ফলে এগুলোর পরিচালনা ব্যয় বাড়ে। এজন্য এয়ারলাইন্সগুলো এরোনটিক্যাল চার্জ কমানোর দাবি করে আসছে সিভিল এভিয়েশনের কাছে। এয়ারলাইন্সগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। আঞ্চলিক রুটের আওতায় ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাবে এয়ারলাইন্সগুলো।

এ প্রসঙ্গে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে তাদের দেশের এয়ারলাইন্সের বিকাশে অভ্যন্তরীণ চার্জ নেওয়া হয় না। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর যাতে প্রসার ঘটে এজন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। এরোনটিক্যাল চার্জ কমানো হলে বাড়তি চার্জের চাপ কমবে।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, দেশের চার এয়ারলাইন্স ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহারে সব ধরনের চার্জ মওকুফ চেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আবেদন জানায়। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের এমডি মাশরুফ হাবিব, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এমডি আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এ আবেদনে পাঁচ বছর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটে এরোনটিক্যাল, উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং ও পার্কিংসহ সব ধরনের চার্জ মওকুফের দাবি করা হয়।

চার্জ কমানো প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের এটিএস অ্যান্ড অ্যারোড্রমস বিভাগের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর অ্যারোনটিক্যাল চার্জ কমানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ৩০ হাজার কেজি ওজন পর্যন্ত উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও রিজিওনাল ফ্লাইটের অ্যারোনটিক্যাল ফি এক রকম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের ভাগ চায় সিভিল এভিয়েশন

/সিএ/টিএন/