ঈদের আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবারের (১৯ জুন) পর থেকেই ঢাকা ছাড়বেন অধিকাংশ মানুষ। এর আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত দিন কাটছে সবার। অফিস ও ব্যবসার ফাঁকে এবং গৃহিণীরা রান্না শেষে বা ইফতারির আগেভাগে বাকি কেনাকাটা করতে বিপণি বিতানগুলোতে ভিড় করছেন। এ কারণে এসব মার্কেটের সামনের ও আশেপাশের রাস্তায় এখন জটলা বেঁধে যাচ্ছে।
ক্রেতাদের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং গাড়ি থেকে ওঠানামার দীর্ঘ লাইনের মধ্যে পড়ে শপিংমলে ঢুকতে চাইলে সাধারণ মানুষের এখন হাঁটা ছাড়া যেন বিকল্প নেই। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে না চাইলে যানবাহন দূরে রেখে নেমে হেঁটে বিপণি বিতানের দিকে যাওয়াই বরং শ্রেয় তাদের কাছে।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে এখন জমজমাট রাজধানী ও আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্স। এতে করে বিপণি বিতানগুলোর সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। রবিবার (১৮ জুন) রাজধানীর এমন কয়েকটি সড়ক ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সায়েন্স ল্যাব মোড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি শপিং কমপ্লেক্স। রবিবার দুপুর ১টায় এখানে সরেজমিন দেখা গেলা, কলাবাগান থেকে শুরু হয়ে নীলক্ষেত ছাড়িয়ে ইডেন মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট। শপিং কমপ্লেক্স এলাকা হওয়ায় ঈদ উপলক্ষে এমন পরিস্থিতি দিনভর থাকে বলে উল্লেখ করলেন সায়েন্স ল্যাব মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ আজহার উদ্দীন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত এখানে তীব্র যানজট থাকে। এই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের।’
নিউ মার্কেট এবং গাউছিয়া মার্কেটের সামনেও দেখা গেলো, মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই! ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে রিকশা, প্রাইভেট কার, বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন যানবাহন। রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে পথচারীদের। সাভার থেকে কেনাকাটা করতে নিউ মার্কেট এসেছেন রনি। তার অভিযোগ, ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবেই এই দুর্ভোগময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’
গাউছিয়া মার্কেটের সামনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট রহমত আলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে সবাই এখন মার্কেটমুখী। আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছি। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে, সেজন্য সবসময় সজাগ থাকছি।’
তবে গাউছিয়া মার্কেটের সামনে থাকা ময়লার ডাস্টবিন নিয়ে সার্জেন্ট রহমত আলির অভিযোগ, ‘রোজায় ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে দায়িত্ব পালন করতে বেশ বেগ পেতে হয়। কেনাকাটা করতে আসা মানুষেরও অনেক দুর্ভোগ হয় ডাস্টবিনের কারণে।’
প্রায় একই রকম চিত্র ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স ইস্টার্ন প্লাজার সামনে। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম লেগে আছে বলে অভিযোগ কেনাকাটা করতে আসা ভুক্তভোগীদের। রাজধানীর আরেক জনপ্রিয় শপিং মল বসুন্ধরা সিটির সামনে গিয়ে চোখে পড়লো, যত্রতত্র পার্কিং করা গাড়িতে মামলা দিচ্ছিলেন সার্জেন্ট ফরহাদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। তারপরও যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং চলছে। মূল রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে রাস্তার স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
বসুন্ধরা সিটির পাশেই কাওরান বাজার মোড়ে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশ মাহমুদ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে অসংখ্য মানুষ কেনাকাটা করেন। শপিং ছাড়াও মানুষ এখানে আড্ডা দিতে, খেতে, সিনেমা দেখতে কিংবা ঘুরতে আসেন। এ কারণে মানুষ এবং যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকে এখানে। তাই যানজট সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।’
/এমটি/ইউআই/জেএইচ/আপ-এমও/