প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সার্কেল অব লিডার’ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। শান্তিরক্ষা কাযর্ক্রমে সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানো অন্যতম বৃহৎ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।
সোমবার (১৯ জুন) পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলার লড়াইয়ে প্রথম সারিতে দেখতে চান। এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতেও বাংলাদেশকে সামনের কাতারে আশা করেন।
পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘের মূল্যবোধ ও নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মহাসচিবের অগ্রাধিকার প্রদানের প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) সাদিয়া ফয়জুন্নেছা, বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকালে পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ এর ওপর একটি হাই লেভেলে ডিবেটে বক্তব্য রাখেন। ইতালির স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিসের (ইউএনওডিসি) সহযোগিতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এ ইভেন্টটির আয়োজন করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনায় ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ জাতীয় অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এটিকে শক্তিশালী করেছি। মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন মোকাবিলায় আমাদের টেকসই উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত পেয়েছে।’
মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, বন্যপ্রাণী ও সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ পাচার রোধে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর পররাষ্ট্র সচিব গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ‘ডার্ক ওয়েব’ এর বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যা প্রায়ই সন্ত্রাসী ও সহিংস চরমপন্থীরা তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে।
/এসএসজেড/এসটি/