দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে কাজ করবে বাংলাদেশ-ভারত

বাংলাদেশ ও ভারতদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটান। জনগণের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ত্রিদেশীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ খাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিদ্যমান সহযোগিতা একটি নতুন স্তরে উন্নীত হবে। এক্ষেত্রে চতুর্থ দেশ হিসেবে এ অঞ্চলের আরেক দেশ নেপালকেও প্রকল্পের অংশীদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে ঢাকা ও দিল্লি।

সম্প্রতি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সড়ক বা রেল সংযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়টি যুক্ত হলে সেটা এ অঞ্চলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের একটি মজবুত ভিত তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। বছরে দুদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা যথাক্রমে ৯ শতাংশ ও ১০ শতাংশ করে বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা এবং উভয় দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারই পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যৌথভাবে ট্রান্সমিশন লাইন এবং ট্রান্সফরমার নেটওয়ার্ক-এর ব্যবহারের উপায় নিয়েও দুদেশ একমত হয়েছে।

এই উদ্যোগের মূলে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার বিষয়টি নিশ্চিত করা। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য ২০২০-৩০ সালের মধ্যে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অনুযায়ী, ২০২০ সাল অথবা এর আগেই মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে চায় বাংলাদেশ।

ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী, ভুটানের দর্জিলাং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটান। এর বাইরে ভারত ও ভুটান ইতোমধ্যেই দুদেশের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে সম্মত হয়েছে। তবে সেটা ত্রিদেশীয় সমঝোতার অংশ নয়। তবে দর্জিলাং-এর উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য ভারতকে বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ রফতানির প্রয়োজন হবে না।

এ বিষয়ে তিন দেশের মধ্যে প্রথম আলোচনা হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। এরই ধারাবাহিকতায় পরে আরও বিভিন্ন সময়ে এ ইস্যুতে আলোচনায় বসেছে সার্কভুক্ত তিন দেশ। এসব বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা করেন কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ঘাট এবং কক্সবাজারের মহেশখালীতেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (ডিপিডিবি) এবং ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের মধ্যে দর্জিলং প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে রাজি আছে। গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফরের সময়েও তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

ট্রান্সমিশন লাইন প্রসঙ্গে ঢাকায় আরেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভেড়ামাড়া-বহরমপুল ট্রান্সমিশন লাইন রয়েছে। এ লাইনের  মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশ আমদানি করে।  এছাড়া ত্রিপুরার পালাটানা প্রকল্প থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আখাউড়া-আগরতলা ট্রান্সলাইন লাইনের কাজ প্রায় শেষের পথে।

তিনি বলেন, এদুটি ছাড়াও আরেকটি বড় আকারের তৃতীয় ট্রান্সমিশন লাইন করার চিন্তাভাবনা  হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত  হয়নি।

/এমপি/এসএসজেড/ এপিএইচ/