এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ২০১৩ সাল থেকে আলোচনা চলছে। এবারের উচ্চপর্যায়ের সফরে আমরা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বা ইকোনমিক পার্টনারশিপের জন্য সমঝোতা স্মারক চুক্তি করার বিষয়ে একমত হয়েছি। এ সংক্রান্ত একটি খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
মুক্তবাণিজ্য চুক্তি না করে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সমঝোতা স্মারক কেন করা হচ্ছে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়া বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশসহ অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলো শুল্ক ছাড় পাচ্ছে। এর ফলে শুধু উৎপাদনশীল খাতকে মাথায় রেখে সব ধরনের বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। আমরা এর পরিধি বৃদ্ধি করে উৎপাদন ও সেবা খাতসহ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। এজন্যই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সমঝোতা কাঠামো প্রয়োজন। এ ধরনের চুক্তিতে ১০ থেকে ১৫ বছর পরে দুই দেশের অর্থনীতির অবস্থান বিবেচনা করা হয়। এটি দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।’
জানা যায়, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সমঝোতা স্মারকে বাণিজ্য, অর্থায়ন, লজিস্টিক, ট্রান্সশিপমেন্ট, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি, ফিশারিজ ইত্যাদি খাতগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিষয়ে বেশ আগ্রহী জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। আমরা আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে তারা শুধুই উৎপাদনশীল খাতে নয়, সেবা খাতেও বিনিয়োগ করবে।’
বাংলাদেশের শ্রমসহ অন্যান্য খাতে কম খরচের সুবিধা রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ তথ্য উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখন স্লথগতির। এ কারণে তারা এখন অনেক দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য বা একই ধরনের চুক্তি করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা শ্রীলঙ্কার নিজস্ব বাজারের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশেও তাদের রফতানি কার্যক্রম চালাতে পারবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নে শ্রীলঙ্কার শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বললেন, ‘বর্তমানে শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী কোনও দেশের মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৩০৬ ডলারের বেশি হলে সেই দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিএসপি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘একটি গবেষণা অনুযায়ী আগামী সাত বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কা জিএসপি সুবিধা আর পাবে না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সুবিধা আরও ১৫ বছরের বেশি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ কারণে শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে মুনাফার মুখ দেখতে চায়।’
এ প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই দেশের জন্য লাভজনক এমন একটি অর্থনৈতিক সমঝোতা কাঠামো চাই আমরা। সেজন্য এ ধরনের একটি চুক্তি করার জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
/এসএসজেড/জেএইচ/