ঢাকায় ফিরেছেন ফরহাদ মজহার

আদাবর থানায় আনার পর মেয়ে ও স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন ফরহাদ মাজহার

যশোরের নওয়াপাড়া থেকে উদ্ধার করা ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল যশোর থেকে একটি মাইক্রোবাসে (গাড়ি নম্বর- ঢাকা মেট্রো চ ১৩৪১৩১) করে তাকে নিয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা পৌঁছায়। ফরহাদ মজহারকে বর্তমানে রাজধানীর আদাবর থানায় রাখা হয়েছে। সেখানে তার স্ত্রী ফরিদা আখতার ও মেয়ে সমতলী হক আছেন।  

আদাবর থানায় ফরহাদ মাজহার

সোমবার রাতে র‌্যাব ৬ নওয়াপাড়া থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে আদাবর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) হাফিজ আল ফারুকের নেতৃত্বে তাকে যশোর থেকে ঢাকায় আনা হয়।

সমতলী হক বলেন, 'বাবাকে দেখে খুব সিক ও বিধ্বস্ত মনে হচ্ছে। বাবাকে আগে এমন দেখিনি। আমরা তার হেলথ নিয়ে চিন্তিত।'

ব্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'ব্যাগ সঙ্গে নিয়েছেন কিনা তা তো জানি না। বাট উনি প্রায়ই একটা ব্যাগ সঙ্গে রাখেন বই পড়ার জন্য। তবে তার কাছে যেমন ব্যাগ দেখা গেছে তেমন ব্যাগ উনি ইউস করেন না। এ ব্যাগ কোথায় থেকে আসলো জানি না।'

আদাবর থানার সামনে গাড়ি থেকে নামার পর মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন ফরহাদ মজহার

ফরিদা আখতার বলেন, 'উনি ব্লাড প্রেসারের রোগী। ওষুধ না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর আমার মনে হচ্ছে উনি ঠিকমত খাননি। সঙ্গে ওষুধ নেননি। ওনাকে দেখে খুব খারাপ লাগছে। আগে এমন দেখিনি।'

র‌্যাব ৬-এর সিও খন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে সোমবার জানিয়েছিলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে খুলনায় নেওয়া হচ্ছে।’ অবশ্য রাত ১২টা ৫০ যশোরের অভয়নগর থানার ওসি আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ফরহাদ মজহার থানা হেফাজতে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই গাড়িতে করে ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় আনা হয়

র‌্যাব ৬-এর সিও খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি গাড়িতে করে ঢাকায় ফিরছিলেন ফরহাদ মজহার। এ সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ৬ ও পুলিশ যৌথভাবে যশোরের নওয়াপাড়ায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটি তল্লাশি করে পুলিশ। ওই গাড়িতে ছিলেন ফরহাদ মজহার। তাকে ঢাকার আদাবর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফরহাদ মাজহার-৩

পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাব ৬ নিশ্চিত হয়েই নওয়াপাড়ায় অবস্থান নিয়ে যানবাহনে তল্লাশি করে। এ সময় অভয়নগর থানা পুলিশও আমাদের সহায়তা করে। সেখানে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসের আই-২ সিট থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়।

খন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি সোমবার সকালে যে পোশাক পরে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সে পোশাক পরিহিত অবস্থাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফরহাদ মাজহার-১

প্রসঙ্গত, ৩ জুলাই সোমবার ভোররাতে মোহাম্মদপুর লিংক রোডের হক গার্ডেনের নিজ বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। এরপর ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান, ‘ফরিদা, ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম।

/এনএল/এসটি/