বুধবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখ্তারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষে পাঠানো বিবৃত্তিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড-এ মেয়াদোত্তীর্ণ বয়লার বিস্ফোরণে ১৩ জনশ্রমিক ‘হত্যা’র প্রতিবাদে নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছর গাজীপুরের ট্যাম্পাকো ফয়েল কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। ওই ঘটনার পর ঘোষণা দেওয়া হয়, সব কারখানার বয়লার পরীক্ষা করা হবে এবং বছরে অন্তত দুইবার নিরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ নিতে হবে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু তার কোনও অগ্রগতি হয়নি, তা শ্রম প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করার পরও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্বপদে বহাল থাকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।
বিবৃতিতে নেতরা বলেন, ‘মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড কারখানায় যে বয়লারটি বিস্ফোরিত হয়েছে তা মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। বয়লার চালু করার পর কয়েকবার সংকেত দিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা অভিযোগ করার পরও বয়লার অপারেটর তা চালু রাখেন বলেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। মালিক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে একে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বলা যাবে না। বরং এটা নিশ্চিত কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এত বড় ঘটনার পরও যখন দোষীরা শাস্তি পায় না, শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের আইন বদলায় না, তখন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সুযোগ থেকেই যায়। এর প্রমাণ মাল্টিফ্যাবস বয়লার বিস্ফোরণ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, দেশ ও শিল্পের স্বার্থেই মাল্টিফ্যাবস কারখানার মালিক, বয়েলার অপারেটর, বয়েলার পরিদর্শকসহ সব দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা প্রয়েজন।
/ইউআই/এসএমএ/