এই সাময়িক স্বস্তিমূলক অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই সাময়িক স্বস্তি রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারত সরকারের ওপর সুন্দরবনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সুরক্ষা নিশ্চিতের চ্যালেঞ্জ ও দায় বহুগুণে বেড়েছে। বিশ্বঐতিহ্য কমিটির পরবর্তী ৪২তম সভার মধ্যে সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণে অর্পিত শর্তাবলী পালনে ব্যর্থ হলে সুন্দরবনকে আবার ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্বঐতিহ্য কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত কর্তৃপক্ষের কতিপয় সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সেইসঙ্গে টিআইবি আরও লক্ষ করছে যে, কমিটি বাংলাদেশ ও ভারতকে ২০১৬ সালের মার্চে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার) মিশন প্রসূত প্রতিটি সুপারিশসহ কতিপয় সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ সুপারিশ অত্যন্ত জোরালোভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লিখিত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কমিটির ৪১তম সভার প্রতিবেদনের ৫৫ থেকে ৫৮ পৃষ্ঠার তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবন ও তার আশেপাশে বিশেষকরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর ‘কৌশলগত পরিবেশ প্রভাব সমীক্ষা’ সম্পন্ন করতে হবে এবং তার আগে ওই এলাকায় রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সব প্রকার শিল্প কারখানার কার্যক্রম স্থগিত করতে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বঐতিহ্য কমিটি আহ্বান জানিয়েছে। একইভাবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পশুর নদ খননের আগে এর পরিবেশগত প্রভাব ও সুন্দরবনের পরিবেশগত পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। আর ২০১৬ সালের মার্চে এর মিশন উপস্থাপিত সুপারিশগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা হয়েছে তারও প্রতিবেদন ২০১৮ এর ফেব্রুয়ারি’র মধ্যে ইউনেস্কোর নিকট দিতে হবে।
সুন্দরবন সুরক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ অপরিহার্যতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে কমিটি ইউনেস্কোর ২০১৬ সালের মার্চ মিশনের সব সুপারিশ জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে আইইউসিএন এর পরামর্শ অনুসরণ করা ও রামপাল প্রকল্পের বর্তমান অবস্থানে সব সম্প্রসারণ কাজ বন্ধ করার যে সুপারিশ করেছে তার প্রতি টিআইবি রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
/আরজে/এসএমএ/
আরও পড়ুন
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা প্রত্যাহার করলো ইউনেস্কো