তরুণ প্রজন্মের কাছে অ্যাডভেঞ্চার একটি আকর্ষণীয় বিষয়। এই রোমাঞ্চের নেশায় বিশ্বজুড়ে এখন জমে উঠেছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশেও পাহাড়, সমুদ্র, নদী ঘিরে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম গড়ে তোলা সম্ভব। বিভিন্ন আয়োজন ও ব্র্যান্ডিং করা গেলে বাংলাদেশও হয়ে উঠবে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের অন্যতম গন্তব্য।
স্বল্প পরিসরে হলেও বাংলাদেশে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। রোমাঞ্চপিপাসু লোকজনের জন্য গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে নানা আয়োজন করেছে বেজ ক্যাম্প বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছর কক্সবাজারে মাইক্রো লাইট প্লেনের মাধ্যমে আকাশ থেকে সমুদ্র দেখার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। পর্বতারোহণ ও অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে কাজ করে নর্থ আলপাইন ক্লাব। এ সংগঠনটি পর্বতারোহণ ও নানা ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ইভেন্টের আয়োজন করে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাহাড় রয়েছে। তিন হাজার ফুটের বেশি উচ্চতার পাহাড় রয়েছে ১২টি। এগুলো হলো, বান্দরবানের সাকা হাফং, মোদক মুয়াল, ক্রেইকুং তাউং, জোগি হাফং, থিংদৌল তেত্ল্যাং, কেওক্রাডং,নাসাই হুম, রাঙামাটির দুমলং, মাইথাই জামা হাফং, মুখ্রা থুথাই হাফং, রাং ট্লাং, কাপ্তাই।
এসব পাহাড়ও হাইকিং, ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিং ইত্যাদির ব্যবস্থা করলে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষের গন্তব্যে পরিণত হবে। শুধু তাই নয়, পাহাড়ি অঞ্চলের জঙ্গলে হলকেভিং, হান্টিং, আর্চারি, ব্যাকপ্যাকিং আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষের আগ্রহ বাড়বে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে সারফিং, হট এয়ার বেলুন, প্যারাগ্লাইডিং, হ্যান্ড গ্লাইডিং, প্যারাসুটিং, স্কাই ডাইভিং, বাঙ্গি জাম্প, মাইক্রো লাইট প্লেন ইত্যাদি আয়োজন করা হলে আর্কষণ বাড়বে পর্যটকদের কাছে।
দ্য বেজ ক্যাম্পের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামজিদ সিদ্দিকি স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রচুর সুযোগ আছে। স্বল্প পরিসরে এখন অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম নিয়ে কাজ হচ্ছে। তরুণরা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রতি প্রবল আগ্রহী। বিশ্বের কাছে এ বিষয়ে আমাদের নিজেদেরই তুলে ধরতে হবে।’
নর্থ আলপাইন ক্লাবের মহাসচিব মুসা ইব্রাহীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশের ভেতরে তরুণরা এখন পাহাড়ে উঠছেন। পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। নাইট ক্যাম্প, সাইক্লিং, হাইকিং, ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিং করছেন। তবে দেশের বাইরে থেকে কম মানুষ আসেন। এজন্য আমাদের ব্র্যান্ডিং দরকার, বড় আয়োজন প্রয়োজন। নানাভাবেই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে তুলে ধরা সম্ভব।’
এ প্রসঙ্গে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক সৈয়দ শাফাত উদ্দিন আহমেদ তমাল বলেন, ‘আমাদের দেশে অবকাঠামোগত সমস্যা এখনও আছে। সরকারের ধীর গতির কারণে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে প্রচুর সময় লাগে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে সরকারে নীতি নেই। দেশের পাহাড়ে আমরা চাইলেই ক্যাবল কার বসাতে পারি না। কিন্তু কেউ আগ্রহী হয়ে বিনিয়োগ করতে চাইলেও এজন্য কোনও নীতিমালা নেই। সরকারের নীতি পর্যটনবান্ধব না হলে ব্যবসায়ীদের একক প্রচেষ্টায় বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পর্যটকরা সব সময় বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য আর অ্যাডভেঞ্চার খোঁজেন। আমাদের দেশে যেমন বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য আছে, তেমনি অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। পাহাড়, পর্বত ও বন সবই আছে। এছাড়া, অ্যাডভেঞ্চারের জন্য কিছু কৃত্রিম আয়োজন হয় বিশ্বজুড়ে। সেটা বাংলাদেশেও সম্ভব। বেসরকারি উদ্যোগে অল্প-অল্প করে বিভিন্ন আয়োজন হচ্ছে, আমরা তাদের সহায়তা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশকে এখন ব্র্যান্ডিং করার দরকার। বিশ্বের কাছে তুলে ধরা দরকার। সবাই মিলে ব্র্যান্ডিং করতে পারলে অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশে আসবেন। ফলে সামগ্রিকভাবে পর্যটন খাতে আয় বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রাও বেশি আয় হবে।’
ছবি: দ্য বেজ ক্যাম্পের।
/সিএ/এএম/এসটি/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: ধীরে হলেও অনলাইন সেবায় দেশের পর্যটন শিল্প