সহজ বিদ্যুৎ সরবরাহে মহাপরিকল্পনা দেবে তেল-গ্যাস কমিটি

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে মিছিলপরিবেশের কোনও ক্ষতি না করে জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তিতে সুলভ মূল্যে মানুষের জন্য সহজে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা সম্বলিত মহাপরিকল্পনা পেশের ঘোষণা দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে দেশব্যাপী মিছিল ও সমাবেশে করে জাতীয় কমিটি। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আগামী ২২ জুলাই আমরা আমাদের এই মহাপরিকল্পনা সবার সামনে তুলে ধরব।এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই আমাদের লড়াইয়ের প্রধান এজেন্ডা হবে।’ এছাড়া, ২৫ জুলাই খুলনার শরণখোলা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবারের এই সমাবেশে বক্তারা বলেন,‘রামপাল প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য আত্নঘাতী। এই প্রকল্প দেশের মানুষের জন্য নয়,মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য নয়। এই প্রকল্প হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।’ বক্তারা সরকারকে অনতিবিলম্বে এই প্রকল্প বন্ধের ঘোষণা দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির রূপরেখা প্রণয়নের আহ্বান জানান। 

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে মানববন্ধনসমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ বলেন,‘সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল প্রকল্প বাতিলের লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে যে আন্দোলন চলছে, তার ধারাবাহিকতায় আজকের এই সমাবেশ। আমরা এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে রামপাল প্রকল্প বিষয়ে সরকারের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’ ইউনেস্কোর অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে রামপাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে তথ্য দেওয়া আছে সেগুলোর কোনও পরিবর্তন হয়নি। যদি তথ্যের কোনও পরিবর্তন না হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত কিভাবে পরিবর্তন হলো!’

সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে দিয়ে ঘুরে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্ করে বলেন, ‘আপনারা যদি সত্য কথাই প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে আমাদের দমনপীড়নের এই নীতি থেকে সরে আসেন। ২৫ জুলাই আবার আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেব। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যেমন পরাজয়ের কোনও সুযোগ ছিল না, তেমনি সুন্দরবন রক্ষায় এই আন্দোলনে আমাদের পরাজয়ের কোনও সুযোগ নেই।’

এসময় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী)ও বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

এমটি/ইউআই/এএম