১০ মিনিটের পথ দুই ঘণ্টা!

বুধবার সকালে বাড্ডা এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়রাজধানীর মেরাদিয়া হাটের বাসস্ট্যান্ড থেকে বুধবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টায় আলিফ পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলেন নোমান সিদ্দিক। সেখান থেকে বাড্ডায় অফিসে পৌঁছতে তার সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘণ্টা। অন্যসময় এ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে অফিসে পৌঁছতে তিনি এক ঘণ্টার বেশি দেরি করেছেন। এজন্য তাকে জরিমানা গুনতে হবে।

নোমান সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো অফিস যেতে এক ঘণ্টার বেশি সময় হাতে রেখে বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখি রাতের বৃষ্টিতে সড়কে কম বেশি পানি জমে আছে। স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে একটু দূরে গিয়ে দেখি গাড়ি আর চলে না। জ্যামে পড়ে গাড়িচালকরা ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে আছেন। বাধ্য হয়ে বাস ছেড়ে হেঁটে এগোতে থাকি। কিছুক্ষণ পর গাড়ি চলতে শুরু করলে অন্য একটি বাসে উঠে পড়ি। দু’মিনিট পর দেখি আবারও জ্যাম লেগে গেছে। বাসটি বাড্ডার লিংক রোডে যখন আসে, তখন বেলা ১১টা বাজে। আমার অফিস ১০টা থেকে। অফিসে পৌঁছতে ততক্ষণে এক ঘণ্টা দেরি হয়ে গেছে। জ্যাম না থাকলে এ পথ আসতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না।’

জানা গেছে, রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরাদিয়া হাট পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরে গেছে। বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের  বনশ্রী ডি ব্লকের সামনে রাস্তায় বড় দু’টি গর্ত রয়েছে। এ স্থান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে খুবই ধীরগতিতে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হয়। তাছাড়া, এ সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রতি বুধবার মেরাদিয়া বাজারে হাট বসায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রামপুরা মেরাদিয়া সড়কটি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নয়। সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে যদি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাহলে আমরা এটির উন্নয়ন কাজে হাত দিতে পারব।’

বুধবার সকালে বাড্ডা এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়মালিবাগ থেকে রেলগেট হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড় পর্যন্ত সড়কের একাংশ কাটা। চার লেনের এ সড়কের এক অংশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় মাত্র একটি লেন দিয়ে ধীরগতিতে এক লাইনে যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও খানাখন্দও রয়েছে। ফলে যানবাহনের চাপে জ্যামের তীব্রতা লেগেই থাকে এ সড়কে।

এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহনের চালক রাকিব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত তিন বছর থেকে এই রাস্তার অবস্থা একই। কোনও পরিবর্তন নেই। একবার গর্তে পড়লে রেকার দিয়ে তুলতে হয়। মালিবাগ থেকে কুড়িল যেতে বড়জোর ৩০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু এখন দুই ঘণ্টায়ও যাওয়া যায় না। যাত্রীরা বিরক্ত হয়। রাস্তাটি গ্রামের কাঁচা রাস্তার চেয়েও খারাপ। গাড়ি হেলেদুলে চলে।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর মালিক নতুন গাড়ি নামিয়েছেন। ছয় মাস গেছে। এখন গাড়ির অবস্থা কেমন হয়েছে, দেখেন।’

সড়কটির বিষয়ে কয়েকদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘সড়কটিতে উন্নয়ন কাজ চলছে। ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর বেশিদিন এমন অবস্থা থাকবে না।’

যানজটে আটকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়ে যাত্রীদেরশুধু এ দুটি সড়ক নয়, বুধবার নগরীর প্রায় সবক’টি সড়কেই তীব্র যানজট ছিল। মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরজুড়ে এ যানজট দেখা দেয়। ফলে অফিসমুখী মানুষকে যানজটে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, আজিমপুর, নিউ মার্কেট, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মিরপুর, মহাখালী, গুলশান, বনানী, এয়ারপোর্ট, উত্তরা, গাবতলী, সায়েদাবাদ, খিলগাঁও, কমলাপুর, আরামবাগ, রাজারবাগ ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে যানজট ছিল। যানজটের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি সড়কজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুড়ির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, অপরিকল্পতি নগরায়ন, অবৈধ রিকশা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপও যানজটের জন্য দায়ী।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজের জন্য আমরা শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়ে থাকি। ছোট কাজগুলোর জন্য আঞ্চলিক কার্যালয় ও বড় ধরনের কাজের জন্য নগর ভবন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কাজের ধরন অনুযায়ী একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তা ২৮ দিনের বেশি নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে বলা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা তা করে না। যে কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।’

এসএস/এএম