কেবল মিলি না,যারাই আজ রাজধানীতে পথে বের হয়েছেন তাদের যানজটে নাকাল হতে হয়েছে। রাস্তার কোথাও কোথাও একেবারে যানবাহন শূন্য ছিল। আবার কোথাও গাড়িগুলো এমনভাবে আটকে আছে যে নড়ার উপায় নেই।
মানিক মিয়া এভিনিউয়েও পানি থৈ থৈ করছে। ধানমন্ডি ১৬ নম্বর (পুরনো ২৭ নম্বর) এক কোমর পানি। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাওয়ায় রাস্তায় বন্ধ পড়ে আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা,প্রাইভেট কার।
কথা হয় সিএনজি চালক সোহরাব হোসেনের সঙ্গে। ১৬ নম্বরের মাথায় স্টার্টবন্ধ হয়ে গেছে তার সিএনজির। তিনি বলেন,‘দেড়ঘণ্টা জ্যাম ঠেলে ৩০ সেকেন্ডের পথ পাড়ি দিয়ে আসছি। এরপর স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেল। আজ সারাদিনের ইনকাম বন্ধ।’
মোহম্মদপুর বাবর রোড থেকে ওই সিএনজিতে উঠেছিলে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সালেকিন। তিনি বলেন,‘অফিস মিস হয়েছে। এখন সিএনজি নষ্ট হওয়ায় বৃষ্টির মধ্যে কিভাবে কি করবো বিরক্ত লাগছে।’
তিনদিনের বৃষ্টিতে নাকাল নগরবাসী বুধবার সকালে ভোগান্তিতে পড়ে। মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি না থাকলেও বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টির বেগ বেশি থাকায় রাস্তায় পানি জমতে শুরু করে। নগরীর প্রধান সড়কের মধ্যে মানিকমিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডি ১৬ নম্বর থেকে শুরু করে শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, সচিবালয়, পুরান ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে। আর সকালে অফিসে, স্কুলে বের হওয়া মানুষ শুরুতে গাড়ি পেলেও ১০টার পর সেভাবে রাস্তায় গাড়ি ছিল না। কারণ যানজনে রাস্তায় আটকে ছিল গাড়ি।
রাজধানীর ফার্মগেট থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত এলাকা পানি জমে থাকায় এই এলাকায় সকালের দিকে গাড়ি ধীরে ধীরে এগুতে পারলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থমকে যায়। সকাল ১০টা থেকে এখানে যাত্রবাড়ীগামী বাসে ঠায় বসে থাকা ষাটোর্ধ্ব রবিউল আলম বলেন, ‘অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাসে উঠেছি। এখন বাসের মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে বসে আছি। অতো শক্তি নাই যে হেঁটে রওনা দিব।’
আর এই সুযোগ নিয়ে রিকশা ও অটোরিকশা ভাড়া দ্বিগুণ তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় মানুষকে হয়রানিতেও পড়তে হচ্ছে। সিএনজি চালক মোবারক আসাদগেট এলাকায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটুকু আসছি দুই ঘণ্টায়। একেক ট্রিপে যদি চার ঘণ্টা লাগে জমার টাকা তুলবো কী, আর খাব কী? কেবল আমাদের হয়রানি কেউ দেখে না।’
এর দায় কেন যাত্রীর ওপর যাবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘কারণ আজকের মতো বৃষ্টি বাদলায় সবাই গাড়ি চালায় না। তাই রাস্তায় গাড়িঘোড়া কম থাকে।’
মিরপুর ১০ থেকে কাওরান বাজার এমনি সময়ে সিএনজি ভাড়া আড়াইশ টাকা হলেও আজ চারশ থেকে ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। ফার্মগেটের এপারে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা পার হতে ৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া যেকোনও দূরত্বের রিকশা ভাড়া তিনগুণ বেশি দিয়ে চলাচল করতে হওয়ায় বুধবার সকাল হয়রানিতেই কেটেছে নগরবাসীর।
এদিকে নগরীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠা উবারের যাত্রীরা বলেন,‘আজ সকাল থেকেই উবারের কোনও রিকোয়েস্ট দিয়ে সার্ভিস অ্যাভেইলেভল পাওয়া যায়নি।’
উবার চালক রবিউল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘রাস্তায় পানি আর তীব্র যানজটের কারণে আজকে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন অধিকাংশ ড্রাইভার।’
মিরপুর সড়কের পুরো যানজটের কারণ যে ধানমন্ডি ১৬ নম্বর সড়কের মোড় সেটা কেন এই অবস্থায় ফেলে রাখা হচ্ছে-এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এখানে পানি জমলে ঘণ্টা খানেক সময় লাগে পানি নামতে। এ এলাকা থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আমরা মডেল সড়কের পাইলট প্রকল্প নিয়েছি। ইতোমধ্যে পরিকল্পনাও জমা নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই এই এলাকার হয়রানি বন্ধ হবে।’
ছবি: শাহেদ শফিক
/ইউআই/এসটি/
আরও পড়ুন: ‘পদ্মার ওপার ২০ টাকা’ (ভিডিও)