ডিএসসিসির কোরবানির পশুর হাট ইজারায় লুকোচুরি

ডিএসসিসিঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে লুকোচুরির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার বাক্স খোলা নিয়েও নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেন্ডার বাক্স খোলার সময় প্রতিবছর গণমাধ্যম কর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও এবার তাদের ডাকা হয়নি। অনেকটা গোপনীয়তা বজায় রেখে সংস্থার সম্পত্তি বিভাগ ইজারা দেওয়ার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এবারের দরপত্র খোলার অনুষ্ঠানে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী নিজ উদ্যোগে অংশ নিতে চাইলেও তাদের বসার জায়গা দেওয়া হয়নি। বুধবার (২৬ জুলাই) নগরভবনের অডিটরিয়ামে ডিএসসিসির ১৩টি হাটের টেন্ডার বাক্স খোলা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনও তথ্যই দিতে পারেননি সংস্থার সম্পত্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কোনও কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কেউ-ই কোনও কথা বলেননি। সম্পত্তি কর্মকর্তা সামছুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে কোনও কাগজপত্র নেই। এগুলো প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে আছে।’ তবে কয়েকজন কর্মচারী জানান, এ বিষয়ে কোনও তথ্য না দিতে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে বারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কোরবানির পশুর হাট (ছবি সংগৃহীত)বৃহস্পতিবার সম্পত্তি বিভাগের নানা শাখায় চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তার কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি সাড়া দেননি। রাতে তাকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, হাটের ইজারা চূড়ান্ত করার জন্য সবাই প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার কক্ষে আছেন। তাই অফিসে আজ  পোলাও,বিরিয়ানি খাওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা তার পছন্দের ব্যক্তিকে হাটের ইজারা দিতে এমন গোপনীয়তার আশ্রয় নিচ্ছেন। সেজন্য এবারের টেন্ডার বাক্স খোলার সময় গণমাধ্যমকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ক্ষমতাশীল দলের সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি কোরবানির পশুর হাট। আর এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত খোদ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কয়েক কর্মকর্তা। এ বছর ডিএসসিসির আওতাধীন ১৩টি কোরবানির পশুর হাটের টেন্ডারের বিপরীতে কতটি শিডিউল বিক্রি হয়েছে বা কতটি জমা পড়েছে তার কোনও তথ্যই জানা যায়নি।

অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের বাইরে কারও পক্ষে শিডিউল সংগ্রহ ও জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ডিএসসিসির অস্থায়ী গরুর হাটগুলোর ইজারা ক্ষমতাসীনদের আয়ত্বে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা কৌশল। এর মধ্যে একই ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে-বেনামে নামমাত্র মূল্য দিয়ে দরপত্র জমা দেয়। যে কারণে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত দামে ইজারা পেতে সহজ হয়ে যায়। এতে সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে যাচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী হাটগুলোর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একাধিক হাট। দরদাতাদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

এ বছর ঢাকা দক্ষিণের জন্য যে ১৩ হাটের অনুকুলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে সেগুলো হলো- লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাজার, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রীসঙ্গের মাঠ, ধুপখোলার ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, গোপীবাগ ও কমলাপুর ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা ও রাস্তার পূর্ব পাশ, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা (গুলিস্তান-মাওয়া মহাসড়ক ও গুলিস্তান-সদরঘাট সড়ক ব্যতীত), পোস্তোগোলা শশ্মান ঘাট, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ ঘেষে, ঝিগাতলা হাজারীবাগ ও দনিয়া কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা এবং যাত্রাবাড়ী।

এসএস/এএম