শেষ শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন মেজর জিয়াউদ্দিন

শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিন, ছবি- নাসিরুল ইসলাম সহযোদ্ধা ও সহকর্মীদের শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিন। গত শুক্রবার (২৮ জুলাই) সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভালোবাসার সব বাঁধন ছিন্ন করে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। রবিবার (৩০ জুলাই) তার মরদেহ দেশে আনার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকাল তিনটায় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। ঢাকার স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিককর্মী ও শিক্ষার্থীরা এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা শেষ বিকালে তার চেনা শহীদ মিনারে আসেন এই সাহসি যোদ্ধা। শেষবারের মতো তার সঙ্গে ছিলেন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। তখন লাল-সবুজে মোড়ানো ছিল তার মরদেহ।

শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিন, ছবি- নাসিরুল ইসলামজাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন শ্রদ্ধা জানানোর পর বলেন, ‘তার মতো সংগঠক খুব কম পাওয়া যাবে। সামরিক আদালতে বিচারের নামে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পাশাপাশি জিয়াউদ্দিনকেও ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের মতো মানুষদের হারানোর বেদনা, আমাদের বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘এ প্রজন্মর কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের খোলা বই ছিলেন। তাকে হারানোর মধ্যদিয়ে যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো, তা পূরণীয় নয়।’

শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিন, ছবি- নাসিরুল ইসলামগণজাগরণমঞ্চের একাংশের মুখপাত্র কামাল পাশা চৌধুরী শ্রদ্ধা জানানোর পর বলেন, ‘মেজর জিয়াউদ্দিন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাব-সেক্টর কমান্ডার। আমাদের প্রিয় জিয়া ভাই আর নেই— এটি একবারের জন্যও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না। এভাবেই আমাদের ছায়াশূন্য করে এই বীরেরা ধীরে ধীরে ইতিহাস হয়ে যাবেন, এ দিনগুলো বড় বেদনার।’

গত ১ জুলাই অসুস্থ হওয়ার পর জিয়াউদ্দিনকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে।

সহযোদ্ধা ও সহকর্মীদের শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউদ্দিনের, ছবি- নাসিরুল ইসলামউল্লেখ্য, জিয়াউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৬৯ সালে। মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর এম এ জলিলের অধীনে একজন সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি।

/ইউআই/এসএমএ/