একদিকে অঝোর ধারা, আরেকদিকে ঝাঁঝালো রোদ্দুর

রাজধানী একদিকে ছিল বৃষ্টি, অন্যদিকে রোদসকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার আকাশ ঝকঝকে ছিল। ঝাঁঝটা একটু বেশিই বটে। কয়েকদিনের মেঘলা আকাশ আর টিপটিপ বৃষ্টি না থাকায় আবহাওয়ার তীব্রতা একটু বেশি। কিন্তু ঢাকা মানে কোন ঢাকা! রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরায় যে দুই ঘণ্টা টানা বৃষ্টি! কখনও তীব্র বেগে, কখনও টিপটিপ করে।

বৃষ্টির কারণে কয়েকিদন আগে পুরো রাজধানীবাসী যে ভোগান্তিতে পড়েছিল আজ সেই অবস্থা ছিল উত্তরায়। অথচ বনানী থেকে মতিঝিলের যে ব্যস্ত ঢাকা সেখানে ছিল না বৃষ্টির কোনও চিহ্ন।

বৃষ্টিতে এভাবেই রাস্তায় পানি জমেছিল

আবহাওয়া অফিস বলছে,শ্রাবণে এ ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা আর কোনও ছোট এলাকা নয়। উত্তরার দিকে বৃষ্টি হলে মতিঝিলে নাও হতে পারে। এতো তীব্র বৃষ্টির ক্ষেত্রে এ ধরনের পার্থক্য আসলেই খুব স্বাভাবিক কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলছেন, ‘স্বাভাবিক না। তবে হতে পারে।’

উত্তরা-৩

সোমবার সকাল থেকে আকাশ খুব একটা মেঘলা ছিল না উত্তরায়। সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পরে বৃষ্টি শুরু হয়। শুরুর পর তীব্রতা বাড়তে থাকায় জমতে থাকে পানি। প্রধান সড়কে তেমন পানি না থাকলেও সেক্টরগুলোর প্রায় সড়কেই পানি জমে যায়। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিশুরা বিপদে পড়ে। মাইলস্টোন স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমি বসুন্ধরা থেকে আসলাম। সেখানে একটু আগে বৃষ্টি ছিল না। আবহাওয়ার কোনও ঠিক ঠিকানা নাই।’

পান্থপথে ছিল ঝাঁঝালো রোদ

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আবহাওয়ায় কিছু পরিবর্তন এসেছে সেটা সত্য। কিন্তু এটি অস্বাভাবিক না। শ্রাবণে বৃষ্টিতে মাল্টিপল ক্লাউড সেল থাকে। ফলে সবগুলো একসঙ্গে বৃষ্টি উৎপাদন নাও করতে পারে।

আকাশে ছিল মেঘ সূর্যের লুকোচুরি

প্রসঙ্গত, আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.১ ডিগ্রি, সর্বনিম্ন ২৬.৮ ডিগ্রি। ১৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ যদিও তা বিকেল নাগাদ কমবে বলে মনে করছে আবহাওয়া অধিদফতর। গত সপ্তাহের হিসেবে বৃষ্টিপাত একদিনে ৬৭ মিমি উঠলেও সে পরিমাণ কমে এখন ১৭ তে পৌঁছানোয় গরমের তীব্রতা বেড়েছে।

/ইউআই/এসটি/