ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক লাঞ্ছনার নেপথ্যে কী?

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভগত রবিবার রেজিস্ট্রার ও দুই কর্মকর্তার হাতে লাঞ্ছিত হন রাজধানীর বেসরকারি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন।একজন শিক্ষককে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কর্মকর্তাদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, মেধাবী এ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাড়ানোর পাঁয়তারার অংশ হিসেবেই এভাবে অপদস্থ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ফারহান উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই জনপ্রিয়। স্পষ্টবাদী এ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেন। এ কারণে তিনি অনেকেরই অপছন্দের পাত্র হয়ে পড়েছিলেন।

খণ্ডকালীন এ শিক্ষককে স্থায়ী নিয়োগ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবিতে সোমবার (৩১ জুলাই) দিনভর মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবারও এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।  

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষক ও আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা জানান, ফারহান একজন মেধাবী শিক্ষক। তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিরই গোল্ড মেডেল পাওয়া শিক্ষার্থী ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স করেছেন। গত বছর থেকে তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে শিক্ষকতা করছিলেন। পড়াশোনার প্রতি তিনি নানাভাবে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন। মুট কোর্ট নামে একটি নতুন ক্লাস চালু করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। সময়মতো ক্লাসে আসতেন। তিনি ইউনিভার্সিটির ছাত্র থেকে শিক্ষক হওয়ার কারণে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তার নিয়োগ ছিল চুক্তিভিত্তিক, এক বছর মেয়াদি।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভচুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে যেসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অস্থায়ী শিক্ষকরা স্থায়ী নিয়োগ লাভ করেন, তার সব যোগ্যতাই ফারহান উদ্দিন অর্জন করেছিলেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি তার চুক্তির মেয়াদ একমাস বাড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। আগের নিয়ম অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ফারহানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শেষ কর্মদিবস ছিল। কিন্তু তার আগেই তাকে গত ২৯ জুলাই দুপুর ২টার দিকে রেজিস্ট্রার সহুল আফজাল তার কার্যালয়ে ৬ তলায় ডেকে পাঠান। ওই সময় তাকে তার পাওনা বাবদ একটা চেক ধরিয়ে দেন রেজিস্ট্রার। আর বলেন, ‘আপনার চাকরি শেষ। আইডি কার্ড ফেরত দিয়ে যান। আর ক্লাসে ঢুকবেন না।’ এমন কথা শোনার পর ফারহান তাৎক্ষণিকভাবে আইডি কার্ড দিতে চাননি। তখন রেজিস্ট্রার তার অফিসের দুই কর্মকর্তার সহায়তায় এ শিক্ষকের দুই হাত জাপটে ধরে তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে জোর করে কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়, হাতের একাধিক জায়গায় নখের আচড় লাগে। এসময় তাকে গালিগালাজও করা হয়। এরপর ফারহান বিষয়টি তার ছাত্রদের কাছে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তখনি রেজিস্ট্রার ভবনের নিচে বিক্ষোভ শুরু করেন। লাঞ্ছিতের ঘটনায় ফারহান বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, ফারহান ছিলেন যুক্তিবাদী। কর্তৃপক্ষের কোনও সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করতেন। সম্প্রতি শিক্ষকদের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট নামে একটি কোর্সের কনটেন্ট নিয়ে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ বাঁধে। তার সুপারিশ করা বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ওই প্রোগ্রাম কোর্স চালু করা হলে তিনি প্রকাশ্যেই এর সমালোচনা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার চাকরি কেন স্থায়ী করা হবে না- সে বিষয়ে কোনও লিখিত কারণ ব্যখ্যা করেনি কর্তৃপক্ষ।

/এসএমএন/এএম