একনেকে মহেশখালী পাওয়ার হাবসহ ১১ প্রকল্পের অনুমোদন

 

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় (ছবি: ফোকাস বাংলা) কক্সবাজারের মহেশখালী পাওয়ার হাবসহ ১১টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বুধবার একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আজকের উপস্থাপিত ১১টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার থেকে অর্থায়ন করা হবে ৮ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৭৯০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি’ সমন্বিত ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। তবে এ কাজে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি জামালপুরের ‘যমুনা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের’ কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শুরু করে ২ বছরের মধ্যে শেষ করার অনুশাসন দিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন,সম্প্রসারণ,সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় শহরে ভেতর-বাইরের ৩৬টি খাল খনন করা হবে। একইসঙ্গে এসব খালের চার লাখ ২০ হাজার ঘন মিটার কাদা অপসারণ করা হবে। ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সাইড ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক লাখ ৭৬ হাজার মিটার রেটেইনিং ওয়াল করা হবে। ৮৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ৪৮টি পিসি ব্রিজ ও ৬টি কালভার্ট তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পে।’’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জুলাই, ২০১৭ থেকে জুন, ২০২০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো: ফেরী ও পল্টুন নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। রাজাপুর-কাঠলিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথঘাটা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। কেরানীহাট-সাতকানিয়া-গুনাগরী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগারগাঁওস্থ শেরেবাংলা নগরে পর্যটন ভবন নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এছাড়া পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়, এতে ব্যয় ৫৬৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলাধীন বেলগাছা ইউনিয়নের কুলকান্দি ও গুঠাইল হার্ড পয়েন্টের মধ্যবর্তী যমুনা নদীর বাম তীর রক্ষা প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলাধীন যমুনা নদীর বামতীর সংরক্ষণের মাধ্যমে ভুয়াপুর-তারকান্দি সড়ক রক্ষা প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সৌরশক্তি ও পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প,এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মহেশখালী পাওয়ার হাব এর ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪১ কোটি টাকা।

/এসআই/এমএনএইচ/