‘ধর্ষণের ঘটনায় লজ্জা আমাদের, লজ্জা সমাজের’

বিএসএমএমইউয়ের মনোরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. এস এম আতিকুর রহমান (ছবি- নাসিরুল ইসলাম)ধর্ষণের ঘটনায় লজ্জা ভুক্তভোগী নারীর নয়; এই লজ্জা আমাদের, এই লজ্জা সমাজের। ভুক্তভোগী নারীর পাশে থেকে তাকে সহায়তা করার দায়িত্ব আমাদের।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘হ্যাঁ,বলতে দ্বিধা হচ্ছে’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব কথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. এস এম আতিকুর রহমান।
বৈঠকিতে ড. আতিকুর বলেন, ‘১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার হার অনেক বেশি। এই বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে তাদের ওপর প্রভাবও পড়ে বেশি। সাধারণভাবেই মানুষের মস্তিষ্কে যেকোনও ঘটনাই জমা থাকে— সেটা সুখের হোক, আর দুঃখের হোক। দুঃখের ঘটনাগুলোর স্মৃতি এক ধরনের ট্রমা তৈরি করে। কমবয়সীরা এ কারণে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ধর্ষণের ঘটনায় লজ্জা আমাদের সমাজের, কিন্তু আমাদের দায়িত্বও আছে। বলতে আসলেই দ্বিধা হচ্ছে।’
মানসিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে বলে মত দেন ড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সিজফ্রেনিয়া রোগীদের সমাজে পাগল বলা হয়। এটি কিন্তু ঠিক নয়। আমরা চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টার পর এই ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আনতে পেরেছি। ঠিক একইরকমভাবে ধর্ষণের শিকার নারীর ক্ষেত্রেও ধর্ষিতা শব্দটি ব্যবহার করা উচিত না।’
আইনের যথাযথ ব্যবহার না করতে পারা, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা, প্রভাবশালীদের চাপ ও সামাজিক কারণে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও অপরাধী শাস্তি না পাওয়া এবং সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ও ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈঠকিটি আয়োজন করা হয়।
মুন্নী সাহার সঞ্চলনায় বৈঠকিতে আরও অংশ নেন পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস, সমাজকর্মী শিরিন হক, পূর্ণিমা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি পূর্ণিমা, বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর নজরুল কবীর ও চিফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম।
বৈঠকিটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এটিএন নিউজে। এছাড়া বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজ থেকেও লাইভ সম্প্রচার করা হয় বৈঠকি।

আরও পড়ুন-

‘আমার লজ্জা কিসের, লজ্জা বাংলাদেশের’

‘ধর্ষণ সংবাদ’ প্রকাশে সতর্ক প্রস্তুতি নেই গণমাধ্যমের

‘ধর্ষণ মামলার আলামত সংগ্রহে পুলিশের দক্ষতার অভাব রয়েছে’

/সিএ/টিআর/