শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জেদ্দার পথে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত থাই এয়ার, চায়না ইস্টার্ন, হংকং এয়ারলাইন্স, মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স ও টার্কিশ এয়ারলাইন্সের আরও পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগুন লাগার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা বিমানবন্দরের প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের সরবরাহ ও বহির্গমন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এসময় এসব ফ্লাইট ছেড়ে যেতে পারেনি। তবে বিমানবন্দরে অবতরণ সেবা চালু ছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে আবার প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের সরবরাহ চালু করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল বহির্গমন, যা বিকাল ৫টার পর সচল করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পরপর বেলা দেড়টার দিকে বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ অবস্থায় পুরো বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ফ্লোরের অধিকাংশ কর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং বহির্গমনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।’
জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। সেখানে এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়াও সৌদিয়া, কাতার এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মকর্তারা জানান, তাদের পুরো অফিস পুড়ে গেছে। অফিসের লকার, কাগজপত্র ও টাকাপয়সার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বেবিচকের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটিও তিন সদস্যের, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম জানান, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বহির্গমন বন্ধ থাকায় কিছুটা চাপ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আগুনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
আরও পড়ুন-
চালের প্রথম চালান মংলা বন্দরে পৌঁছেছে
অন্ধ বলে আমাকে যেন হেয় হতে না হয়: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সিদ্দিকুর
/সিএ/টিআর/