আদালতের এ আদেশের পর নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ‘বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখার আশা করছি। সেইসঙ্গে পালাতক আসামিদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করছি।’
নিহত তাজুল ইসলামের বাবা বলেন, ‘বিচারিক আদালতে যে রায়টা হয়েছে তাতে তারা সুবিচার পেয়েছেন। তারা আশা করছেন উচ্চ আদালতে ও সুবিচার পাবেন।’
আসামি পক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘সাত খুন মামলায় ২টা ডেথ রেফারেন্স। আমরা মনে করি, এই দুইটা চাঞ্চল্যকর মামলা। ন্যায় বিচারের স্বার্থে হয়তো বিচারপতি মহোদয় হয়তো একটু সময় নিয়েছেন।’
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীরকে । ঘটনা দেখে ফেলায় নজরুলের গাড়ির পেছনে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমও অপহৃত হন। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে মেলে ছয়জনের লাশ। পরের দিন ভেসে ওঠে আরেকটি লাশ। মৃতদেহগুলো ইটভর্তি দুটি করে বস্তায় বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন। একসঙ্গে দুই মামলার বিচার শেষে গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন। বিচারিক আদালতের রায়ে সেনাবাহিনীর বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ওই রায়ে। বাকি ৯ জনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল।
/এমটি/এসটি/