গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহতদের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় কয়েকজন জাপানী নাগরিক প্রাণ হারান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। এছাড়া জাপান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী।’ তিনি বাংলাদেশে সফলভাবে চাকরীর মেয়াদ পূর্ণ করায় জাপানের রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় আব্দুল হামিদ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপানের অবদান ও ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের কাছ থেকে আরও বিনিয়োগের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিন দিন জোরদার হচ্ছে।’
সাক্ষাৎকালে আব্দুল হামিদ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাইকা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
নিকট ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।
জাপানী রাষ্ট্রদূত এ সময় বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় ওয়াতানাবে ১৩৬তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ দেন এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি চলমান বন্যায় বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস