শ্রদ্ধাঞ্জলিজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ওবায়দুল কাদেরপ্রতিবারের মতো এ বছরও সকাল ৭টায় কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবির নাতনি খিলখিল কাজী, তার ভাই বাবুল কাজীর স্ত্রী লুনা কাজীসহ অন্যান্যরা। এরপর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ঢাবি পরিবারউল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এদিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কবি নজরুল ইসলাম। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে খিলখিল কাজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সর্বস্তরের মানুষের কাছে নজরুল ইসলামকে আমরা এখনও পৌঁছে দিতে পারিনি। এ জন্য আমরাই দায়ী।’
জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাএ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাস্তবায়ন। সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবৃক্ষ দেশে শিকড় গেড়েছে, তার মূলোৎপাটন করতে হবে।’
জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাপশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তার কবিতায় গানে উচ্চারণে তিনি হয়ে ওঠেন বিদ্রোহী। কিন্তু এই কবি তার জীবনের সেরা সময়ে ১৯৪২ সালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমশ বাকশক্তি হারান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনিই হয়ে ওঠেন জাতীয় কবি। স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম