শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটির অধীনে মেরাদিয়া কোরবানির পশুর হাটে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে মেরাদিয়া হাটে পৌঁছার পর একটি গরু মাটিতে শুয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টার পরও দাঁড় করানো যাচ্ছে না। ফলে গরুটির দিকে কোনও ক্রেতারই আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তিনি ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের টিম থেকে দু’জন চিকিৎসককে ডেকে আনেন। চিকিৎসকরা গরুকে তিনটি ইনজেকশন দেন। বিনিময়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বকসিস চেয়ে বসেন তারা। এতে কিছুটা অবাক হয়ে আইয়ুব আলী বলেন, ‘আপনারা তো সরকারি চিকিৎসক। টাকা চাইছেন কেন?’ জবাবে একজন জানান, ‘টাকা না, ঈদের বকসিস চেয়েছি। কিছু দিন।’ অনেক তর্কবিতর্কের পর শেষপর্যন্ত চিকিৎকদের বকসিস দিতে বাধ্য হন আইয়ুব আলী।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, এই প্রতিবেদককে ওই দুই চিকিৎসক কোনও কথা বলতে রাজি হননি। বরং দ্রুত দু’জন দু’দিকে চলে যান।
জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, ‘করার কিছুই নেই। তারা সরকারি লোক। চিকিৎসা দিয়ে টাকা চেয়ে বসেন। কী করব? চিকিৎসা পেয়েছি, এটাই বেশি। তাদের কাজের অনেক প্রশংসাও করলাম। কিন্তু টাকা না দিয়ে পারলাম না।’
একই চিত্র দেখা গেছে আফতাব নগর পশুর হাটে। এ হাটে দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি পশু কেনার আগে তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ চান বনশ্রীর বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু এতে চিকিৎসকরা অনীহা দেখাতে থাকেন। শেষপর্যন্ত বকসিসের বিনিময়ে এক জন চিকিৎসক পশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দেখতে রাজি হন। এ প্রসঙ্গে ক্রেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এত টাকার পশু নেব। পশুটা নিরাপদ কিনা, সেটা তো দেখে নেওয়া ভালো। সিটি করপোরেশন যেহেতু হাটে ডাক্তারের টিম পাঠিয়েছে, সেহেতু পরীক্ষা করে নিলে তো ভালো হয়। কিন্তু তাতেও দুর্নীতি! টাকা দেওয়ার আগে অনীহা দেখান ডাক্তাররা। হাতের মধ্যে কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়ার পর ঠিকই এসে পশুটি দেখে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহ্ উদ্দীনকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. আজমত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হাটে দু’টি ভেটেরিনারি ও দু’টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। এর মধ্যে নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিফতরের চিকিৎসকরা রয়েছেন। সেবার জন্য কেউ টাকা নিতে পারবেন না। সম্পূর্ণ খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে।’
এদিকে উত্তর সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. এমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোরবানির হাটে মনিটরিং ও চিকিৎসার জন্য আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। তারা হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছেন। কিন্তু কেউ যদি টাকা নিয়ে চিকিৎসা দেন, অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেব।’